পবিত্র শবে বরাতের ধর্মীয় আবহে স্থানীয় বাজারে মাংসের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে চোরাই মহিষের মাংস বিক্রির এক অসাধু পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে ভোলার মনপুরা থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাংসসহ চোর চক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভোরের অভিযানে পুলিশের সাফল্য পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে মনপুরা উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের আনন্দবাজার সংলগ্ন পাকা সড়কে চেকপোস্ট বসায় টহল পুলিশ। এ সময় একটি সন্দেহভাজন অটোরিকশাকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। রিকশার ভেতরে থাকা চারটি বস্তা খুলে পুলিশ ৮০ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের জবাই করা মহিষের মাংস উদ্ধার করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে বাগন আলী (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
চক্রের নেপথ্যে দুর্গম চরের সংযোগ গ্রেফতারকৃত বাগন আলী উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহান রাঢ়ীর ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, শবে বরাত উপলক্ষে বাজারে মাংসের কৃত্রিম সংকট ও উচ্চ মূল্যের সুযোগ নিতেই এই মহিষটি কোনো এক দুর্গম ‘চর’ থেকে চুরি করা হয়েছিল। গভীর রাতে নির্জন চরে মহিষটি জবাই করে অটোরিকশাযোগে বিক্রির উদ্দেশ্যে লোকালয়ে আনা হচ্ছিল। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, বাগন আলী একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও ৫-৬ জন জড়িত রয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ ও মাংসের বাজারমূল্য গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মনপুরা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। জব্দকৃত মাংসের গুণগত মান বজায় রাখতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশে তা নিলামে তোলা হয়। ৩২ হাজার টাকা ‘Market Value’ বা বাজারমূল্যে ওই মাংস খোলা ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। সংগৃহীত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত ও রিমান্ডের প্রস্তুতি মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “গ্রেফতারকৃত বাগন আলীকে ইতিপূর্বেই আদালতের মাধ্যমে ভোলা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত চোর চক্রের কাজ। এই চক্রের মূল হোতা এবং সহযোগীদের শনাক্ত করতে আসামির রিমান্ড আবেদন করা হবে। কোন চরাঞ্চল থেকে মহিষটি চুরি করা হয়েছে এবং এই ‘Supply Chain’-এ আর কারা জড়িত, তা গুরুত্ব সহকারে অনুসন্ধান করছে পুলিশ।”
শবে বরাতের মতো পবিত্র দিনে অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশের এই তড়িৎ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।