মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ভারতীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত দিয়ে বড় ধরনের কোনো নাশকতার (Sabotage) পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাদরম নামক দুর্গম এলাকায় এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে একদল দুর্বৃত্ত ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে সীমান্ত পিলার নম্বর ১৩৭৫/এম সংলগ্ন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। খবর পাওয়ার পরপরই বিয়ানীবাজার ৫২-বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযানে নামে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মালামাল ফেলে গহীন অরণ্যে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের মারণক্ষমতা
পরবর্তীতে সীমান্ত রেখা থেকে প্রায় দুই-তিন কিলোমিটার অভ্যন্তরে তারাদরম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগটি থেকে উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে:
২৪টি পাওয়ারজেল নাইনটি (Powergel 90) উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক টিউব (যা ভারতের নাগপুরের এসবিএল এনার্জি লিমিটেডে প্রস্তুত করা)।
২৩টি আধুনিক ডেটোনেটর (Detonator)।
১৫ মিটার দীর্ঘ ডেটোনেটর কর্ড।
৩টি দেশীয় তৈরি পাইপগান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধারকৃত ‘পাওয়ারজেল নাইনটি’ অত্যন্ত শক্তিশালী এক ধরণের ইমালশন বিস্ফোরক (High Explosive), যা সাধারণত খনি বা বড় কোনো স্থাপনা ধ্বংসের কাজে ব্যবহৃত হয়। জনাকীর্ণ এলাকায় এই বিস্ফোরক ব্যবহার করলে তা ভয়াবহ প্রাণহানির কারণ হতে পারত।
নির্বাচন ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থান
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরক জব্দের পর বড়লেখা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে গোয়েন্দা নজরদারি (Intelligence Surveillance) বাড়ানো হয়েছে সীমান্ত এলাকায়।
বিয়ানীবাজার ৫২-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরণের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিংবা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবেশ রুখতে বিজিবি জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করেছে। এই বিস্ফোরক চালানের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে গভীর তদন্ত চালানো হচ্ছে।”
সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুরো এলাকাটিতে বিজিবির বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের আগে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাটি স্থানীয় জনমনে আতঙ্কের পাশাপাশি বিজিবির প্রতি আস্থাও বাড়িয়েছে।