• দেশজুড়ে
  • মণিরামপুরে যৌতুক নির্যাতনে গর্ভস্থ ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ, ভুক্তভোগী নারীকে চাপে রাখতে ফাহিমের পাল্টা মামলা

মণিরামপুরে যৌতুক নির্যাতনে গর্ভস্থ ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ, ভুক্তভোগী নারীকে চাপে রাখতে ফাহিমের পাল্টা মামলা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
মণিরামপুরে যৌতুক নির্যাতনে গর্ভস্থ ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ, ভুক্তভোগী নারীকে চাপে রাখতে ফাহিমের পাল্টা মামলা

মূল মামলার গুরুত্ব কমাতে এবং ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই পাল্টা মামলা করা হয়েছে, মামলা নং–CR ১২৬/ ২৬। ৪০৬, ৪২০,৫০০,৫০৬,৩৪ ।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে গর্ভস্থ ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী। অপরদিকে, মামলার চাপ ও তদন্ত প্রভাবিত করতে প্রধান অভিযুক্ত জি এম ফাহিম আলমগীর ভুক্তভোগী নারীকে চাপে রাখতে পাল্টা মামলা করেছেন বলে জানা গেছে ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জি এম ফাহিম আলমগীর বাদী হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি মণিরামপুর আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং–CR ১২৬/ ২৬। ৪০৬, ৪২০,৫০০,৫০৬,৩৪ দ:বি ধারায় মামলা করেছেন । এই মামলায় ভুক্তভোগী নারী সহ তার পরিবারের আর এক সদস্যকে মামলায় আসামী করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি, মূল মামলার গুরুত্ব কমাতে এবং ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই এই পাল্টা মামলা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি জি এম ফাহিম আলমগীর। তিনি মণিরামপুর পৌর এলাকার জি এম আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি মণিরামপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত সোনালী ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ক্যাফে ফাহিম’ নামে পরিচিত। তার মালিকানায় মণিরামপুর বাজারে মুনলিট ক্যাফে (Moonlit Cafe) ও গল্পকুঠি ক্যাফে নামে দুটি ক্যাফে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী একজন পিতৃহীন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিয়ের পর থেকেই তাকে প্রায় ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফাহিমের মালিকানাধীন দুটি ক্যাফে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভুক্তভোগী নারী তার পিতার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল গহনা বিক্রি ও বন্ধক রেখে ক্যাফেগুলো পুনরায় চালুর জন্য অর্থ সহায়তা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে চাপ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে যৌতুক আদায়ের লোভে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তাকে চুলের মুঠি ধরে আছাড় দেয় এবং তলপেটে উপর্যুপরি লাথি মারতে থাকে। এতে তার মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের সামনেই এই নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও তাকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয়। ঘটনার সত্যতা আড়াল করতে স্থানীয় এক কোয়াক ডাক্তারের মাধ্যমে নামমাত্র চিকিৎসা করানো হয়। পরবর্তীতে তাকে কয়েকদিন জোরপূর্বক আটক রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং একপর্যায়ে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়।

পরে ভুক্তভোগী নারী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা নথি ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি প্রতিবেদনে গর্ভস্থ ভ্রূণের মারাত্মক ক্ষতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী নারীর পক্ষের মামলার আইনজীবী মো. রবিউল ইসলাম রবি বলেন,আদালত ভুক্তভোগী নারীর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। গর্ভস্থ ভ্রূণ হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকায় আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার গুরুত্ব হালকা করা ও ভুক্তভোগী নারীকে চাপে রাখতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

এদিকে, জি এম ফাহিম আলমগীরকে ঘিরে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২০২২ সাল থেকে যশোর শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রম রোড, শংকরপুর এলাকার একটি বাসায় ভুক্তভোগী নারীকে নিয়ে স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতেন। ওই বাসার মালিক নাসরিন সুলতানা গণমাধ্যমকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এটি নারী নির্যাতন ও গর্ভস্থ শিশুহত্যার একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।