• রাজনীতি
  • ভারতে বসে রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন আওয়ামী লীগ নেতারা: দ্য গার্ডিয়ান

ভারতে বসে রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন আওয়ামী লীগ নেতারা: দ্য গার্ডিয়ান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতারা দলীয় পুনর্গঠন এবং রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের জন্য নতুন কৌশল তৈরি করছেন। কলকাতায় অবস্থানরত নেতাদের দিল্লিতে ডেকে কৌশল নির্ধারণ করছেন শেখ হাসিনা।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ভারতে বসে রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন আওয়ামী লীগ নেতারা: দ্য গার্ডিয়ান

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে নির্বাসিত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি সুরক্ষিত স্থানে অবস্থান করছেন। তিনি সেখান থেকে বাংলাদেশের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়মিত দলীয় সভা ও ফোনালাপের মাধ্যমে ভবিষ্যতের 'সংগ্রামের' জন্য দলকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছেন। এ সময় তিনি আগামীর বাংলাদেশে রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের জন্য নতুন কৌশল সাজাচ্ছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিনি দিল্লির একটি গোপন ও সুরক্ষিত আস্তানায় অবস্থান করছেন এবং দিনের দীর্ঘ একটা সময় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দল পুনর্গঠন ও ভবিষ্যতের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভারতে নির্বাসিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ

বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের বিরাট অংশ বর্তমানে কলকাতার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। শেখ হাসিনা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাদের নিয়ে রাজনীতিতে ফেরার নতুন ছক কষছেন। দলীয় কৌশল নির্ধারণের জন্য তিনি সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্যসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কলকাতা থেকে নিয়মিত দিল্লিতে ডেকে পাঠাচ্ছেন।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে থাকা লোকজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ভবিষ্যতের সংগ্রামের জন্য দলকে প্রস্তুত করছেন। তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা কখনও কখনও দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা ফোন কল ও বৈঠকে ব্যয় করেন। তিনি আশাবাদী এবং তার সমর্থকরা বিশ্বাস করে যে তিনি 'বীরের বেশে' দেশে ফিরবেন।

নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাবর্তনের কৌশল

আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতাদের দেশে ফেরার পরিকল্পনাটি নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ব্যর্থতার ওপর। তাদের ধারণা, এই নির্বাচন দেশে স্থিতিশীলতা বা শান্তি আনতে পারবে না, যার ফলে মানুষ আবার আওয়ামী লীগের দিকেই ঝুঁকবে। তাই তারা কর্মীদের নির্বাচন বর্জন করতে নির্দেশ দিচ্ছেন।

শেখ হাসিনার সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, “আমরা আমাদের কর্মীদের সব ধরনের নির্বাচনকেন্দ্রিক সংশ্লিষ্টতা থেকে দূরে থাকতে, প্রচার ও ভোট বর্জন করতে এবং মোটের ওপর এই প্রহসনের প্রক্রিয়ায় অংশ না হতে বলছি”।

আপাতত দেশে না ফেরার কারণ ও জেল-ভীতি

নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের এসব নেতা দেশে ফেরার চিন্তা করছেন না। তাদের অভিযোগ, দেশে ফিরলে তাদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলা, হত্যা বা বিনা জামিনে কারাবাসের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে দলের অনেক কর্মী-সমর্থক এখনো আত্মগোপনে আছেন।

সাদ্দাম হোসেন বলেন, “কারাগারে যেতে হবে, সেই ভয়ে কলকাতায় থাকছি— বিষয়টি এমন নয়। আমরা এখানে আছি; কারণ দেশে ফিরলে আমাদের হত্যা করা হবে”।

তবে কোনো কোনো নেতা মনে করেন, দেশে ফিরলে হয়তো তাদের জেলে যেতে হবে, কিন্তু তা বেশিদিনের জন্য হবে না। সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়ও জোর দিয়ে বলেন, ভারতে তার এই নির্বাসন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরলে হয়তো কারাগারই তার জন্য অপেক্ষা করছে।

গণঅভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের অবস্থান

উল্লেখ্য, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে জনগণের দাবির মুখে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ তাদের ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই সাথে শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত অপরাধে সংশ্লিষ্টতার জন্য দলটির বিভিন্ন নেতাকর্মীকে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ। তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডে অনুতপ্ত নন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে জনগণের বিদ্রোহ হিসেবে মানতে নারাজ। তারা একে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।

Tags: india sheikh hasina awami league bangladesh politics exile student-people's uprising