• আন্তর্জাতিক
  • লোহিত সাগরে যুদ্ধের দামামা: মার্কিন জাহাজে বড় হামলার প্রস্তুতিতে হুতিরা, রণকৌশল বদলাচ্ছে ওয়াশিংটন

লোহিত সাগরে যুদ্ধের দামামা: মার্কিন জাহাজে বড় হামলার প্রস্তুতিতে হুতিরা, রণকৌশল বদলাচ্ছে ওয়াশিংটন

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
লোহিত সাগরে যুদ্ধের দামামা: মার্কিন জাহাজে বড় হামলার প্রস্তুতিতে হুতিরা, রণকৌশল বদলাচ্ছে ওয়াশিংটন

ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন গুদাম স্থানান্তরের গোয়েন্দা তথ্যে বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা; আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ অবস্থান পরিবর্তন।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। লোহিত সাগর ও আরব সাগরে মোতায়েনকৃত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘কান নিউজ’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য আক্রমণের অংশ হিসেবে হুতিরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ভাণ্ডার কৌশলগতভাবে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করেছে। এই গোয়েন্দা তথ্যের পর গত মে মাস থেকে অঞ্চলে বিরাজমান তুলনামূলক শান্ত অবস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হুতিদের রণপ্রস্তুতি ও গোয়েন্দা সতর্কতা হুতি বিরোধী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নির্ভরযোগ্য সূত্র মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে জানিয়েছে, বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর ও আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর পুনরায় আঘাত হানার জন্য অত্যন্ত কার্যকরভাবে নিজেদের পুনর্গঠিত করছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ঘাতক অস্ত্রগুলোর গুদাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ মূলত মার্কিন বিমান হামলা থেকে নিজেদের সক্ষমতা রক্ষা করা এবং নতুন করে ফ্রন্টলাইন সাজানোর অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের এই 'Strategic Relocation' সরাসরি মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করার একটি পূর্বসংকেত।

আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান পরিবর্তন এদিকে, হুতিদের এই প্রস্তুতির সমান্তরালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তাদের রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ইরান ও হুতিদের সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় আরব সাগরে একটি অতিরিক্ত ‘এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার’ এবং বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন। ইরানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএনএ (WANA) জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর ‘আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ’ (Abraham Lincoln Carrier Strike Group) বর্তমানে দক্ষিণ ইয়েমেনের জলসীমায় অবস্থান নিয়েছে।

সামরিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, একাধিক ডেস্ট্রয়ার (Destroyer) এবং একটি সাপোর্ট সাবমেরিনসহ এই নৌবহরটি এখন ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপের পূর্বে ও এডেন উপসাগরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এটি ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চাবাহার বন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ওয়াশিংটনের এই অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সম্পদ রক্ষা এবং আক্রমণের পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা (Response Capability) নিশ্চিত করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

আঞ্চলিক অস্থিরতা ও পরবর্তী প্রভাব ইরানি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তেহরানের মতে, এই উপস্থিতি আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি যদি লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল পথে আবারও হামলা শুরু করে, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে ইয়েমেন উপকূল এবং এর সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে মার্কিন নেভি। তবে হুতিদের এই সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লোহিত সাগরে এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে, যা গাজা সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন এক সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

Tags: middle east drone strike us navy maritime security global trade missile attack red sea iran tension pentagon update houthi rebels abraham lincoln aden gulf naval strategy yemen conflict military intelligence