তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও সড়ক উন্নয়ন
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে তার দল ও জোটের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, 'ইনসাফভিত্তিক সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবেই।' এছাড়াও, তিনি বুড়িমারী থেকে রংপুর পর্যন্ত সড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন। যেহেতু উত্তরাঞ্চল কৃষিভিত্তিক, তাই সেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হবে, যাতে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সহজে সারা দেশে বাজারজাত করা যায়।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত আমির। তিনি চাঁদাবাজদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই অপকর্মের দিন শেষ। যারা পরিশুদ্ধ হয়ে ফিরে আসবে, তারা সম্মানজনক কাজের সুযোগ পাবে। অন্যথায়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'গত ৫৪ বছরে জনগণের টাকা লুট হয়েছে, অথচ জনগণ তাদের ন্যায্য প্রাপ্য পায়নি।' ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'আমরা অপরাধ ও দুর্নীতির লেজ ধরে টান দেব না, আমরা কান ধরে টান দেব। মাথা ঠিক হলে শরীর ঠিক হয়।'
তরুণদের নেতৃত্বে পরিবর্তন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে বাংলাদেশ নতুন পথ খুঁজে পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবর্তনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরাই দেশকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। তিনি বলেন, জামায়াত একটি দালালমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত, ব্যাংক ডাকাতমুক্ত ও ঋণখেলাপিমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায়।
গণভোট ও বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির জানান, তার দল আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণভোটে 'হ্যাঁ' বলবে। তিনি বলেন, 'হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি।' এই প্রসঙ্গে তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে অভিযোগ করেন যে যারা ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ চায় না, তারা পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে যেতে চায়।
সমাবেশে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া
নীলফামারী জেলা জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ও ডোমার-ডিমলা আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের আয়োজনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির ও লালমনিরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহের। সমাবেশে তিনটি উপজেলার সনাতন ধর্মের নেতারা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সমাবেশ শেষে জামায়াত আমির নীলফামারীর চারটি ও লালমনিরহাটের তিনটি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে সবার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন।