• জাতীয়
  • ‘পুরো দেশ ও জাতি সশস্ত্র বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে’: একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অঙ্গীকার নৌবাহিনী প্রধানের

‘পুরো দেশ ও জাতি সশস্ত্র বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে’: একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অঙ্গীকার নৌবাহিনী প্রধানের

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
‘পুরো দেশ ও জাতি সশস্ত্র বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে’: একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অঙ্গীকার নৌবাহিনী প্রধানের

নির্বাচনের পরিবেশ সুরক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন; বরগুনায় নৌ-সেনাদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিলেন অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি জানিয়েছেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পুরো দেশ ও জাতি এখন সশস্ত্র বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরগুনা সদর কন্টিনজেন্ট পরিদর্শনকালে উপস্থিত নৌ-সেনা ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী নিরাপত্তায় ‘সর্বোচ্চ’ প্রস্তুতি নৌবাহিনী প্রধান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তার চাদর আরও সুসংহত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এ বছর আমাদের সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা দেশ ও জাতির কাছে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নৌবাহিনীর পাশাপাশি আমাদের সাথে রয়েছে কোস্টগার্ড (Coast Guard) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (Law Enforcement Agency) সদস্যরা। আমরা সবাই স্থানীয় প্রশাসনের (Local Administration) সাথে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছি।”

পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার নির্দেশ মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত নৌ-সদস্যদের উদ্দেশে অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি প্রত্যেক অফিসার ও নাবিককে কোনো ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পূর্ণ আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে পেশাদারিত্বের উচ্চমান বজায় রাখতে হবে যাতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়।

সহিংসতা রোধে কঠোর অবস্থান নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে ‘অতিরিক্ত সতর্ক’ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, “নির্বাচনের দিন এবং এর পরবর্তী দুই থেকে তিন দিন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে যাতে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়, সেদিকে আমাদের তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থা (Intelligence Agency) এবং অন্যান্য বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় (Coordination) বজায় রেখে আমাদের কাজ করতে হবে।”

ভোটের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নির্বাচনী সরঞ্জাম ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো থেকে শুরু করে ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত নৌবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি। ভোটারদের আশ্বস্ত করে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, “আমরা সাধারণ ভোটারদের এই মর্মে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আপনারা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং আপনাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবেন। একটি সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”

দেশ ও জাতির সংকটকালীন মুহূর্তে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর অর্পিত এই গুরুদায়িত্ব পালনে নৌবাহিনী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে তাঁর বক্তব্যে ফুটে ওঠে। বরগুনা সফরকালে তিনি স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং মোতায়েনকৃত সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

Tags: armed forces law enforcement security protocol election update bangladesh navy election security voting safety barguna news navy chief admiral nazmul