• জাতীয়
  • ট্রাম্পের নতুন শুল্কারোপের ঘোষণা: কী হবে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভাগ্য?

ট্রাম্পের নতুন শুল্কারোপের ঘোষণা: কী হবে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভাগ্য?

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শুল্ক চুক্তি স্থগিত হলেও ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্বেগের ছায়া।

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ট্রাম্পের নতুন শুল্কারোপের ঘোষণা: কী হবে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভাগ্য?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করার পর বিশ্ব বাণিজ্যে এক নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায় বাংলাদেশের মতো রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা দিলেও, ট্রাম্পের পাল্টা ‘প্ল্যান বি’ ১০ শতাংশ শুল্কারোপের সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তা কাটছে না। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া পূর্বের চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং পোশাক খাতের ভাগ্য এখন কোন পথে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচিত শুল্ক যুদ্ধে হঠাৎই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ট্রাম্পের ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’-কে অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন। তবে আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪’-এর ধারা ১২২ ব্যবহার করে পুনরায় ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

আদালতের রায়ে ওলটপালট সব পরিকল্পনা ২০২৪ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ থেকে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল এক বড় ধাক্কা, কারণ ভিয়েতনাম বা ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমমূল্য কম হলেও মার্কিন শুল্কের কারণে পোশাকের দাম অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। এই চাপের মুখে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সই করে, যেখানে ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্কের বিনিময়ে আমেরিকা থেকে তুলা, সয়াবিন ও চারটি বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আদালতের বর্তমান রায়ে সেই ‘অসম’ চুক্তির কার্যকারিতা এখন প্রশ্নের মুখে।

ট্রাম্পের ‘প্ল্যান বি’ ও নতুন শুল্ক নীতি আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প পিছু হটেননি। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বের উচ্চ শুল্ক হারের পরিবর্তে এখন ভারত, যুক্তরাজ্য এবং ইইউ-এর মতো বাংলাদেশের ওপরেও ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। তবে শর্ত হলো, এই ১৫০ দিন মেয়াদী শুল্ক আরোপের সময়ে মার্কিন প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমবাজার, কর্মপরিবেশ এবং পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স তদন্ত করবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে এই শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করা হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানিই বেশি। বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, এই মুহূর্তে পুরনো চুক্তি নিয়ে তড়িঘড়ি আলোচনা না করে বাংলাদেশের উচিত সময় নেওয়া। তিনি মনে করেন, মার্কিন প্রশাসন যখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ তদন্ত করবে, তখন আমাদের উচিত হবে শ্রম ও পরিবেশগত মানদণ্ডে স্বচ্ছতা বজায় রেখে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা আগের চুক্তিটি ছিল একপাক্ষিক ও অসম। বর্তমান পরিস্থিতিতে শুল্ক ১৯ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নামা আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক মনে হলেও, ট্রাম্পের অস্থিতিশীল বাণিজ্য নীতির কারণে দীর্ঘমেয়াদে সতর্ক থাকাই হবে বুদ্ধিমত্তার কাজ।

Tags: rmg sector global economy bangladesh trade trump us tariff us-supreme-court