সকাল ন'টার কাঁটা ছোঁয়ার আগেই সচিবালয়ে কর্মচাঞ্চল্য। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে শুরু হয়েছে এক কর্মব্যস্ত দিন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নির্ধারিত সময়ের আগেই সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দাপ্তরিক কাজে মনোনিবেশ করেন তিনি। এদিন প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে একদিকে যেমন ছিল আন্তর্জাতিক কূটনীতি, অন্যদিকে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নের পর্যালোচনা।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার
সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দেশের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও বৈদেশিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ।
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘Strategic Partner’। রাষ্ট্রদূতের এই সৌজন্য সাক্ষাতে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে শ্রমবাজার উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের প্রসারের মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই তৎপরতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ‘Diplomatic Reach’ বাড়ানোর একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এভিয়েশন সেক্টরে নতুন দিগন্ত: থার্ড টার্মিনাল পর্যালোচনা
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আজকের ব্যস্ততার অন্যতম প্রধান অংশ ছিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘Third Terminal’ সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের সভা। বেলা ১২টায় শুরু হওয়া এই সভায় প্রকল্পের অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
শাহজালাল বিমানবন্দরের এই মেগা প্রজেক্টটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ‘Aviation Sector’ বিশ্বের কাছে একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এটি শুধু যাত্রী সেবাই বাড়াবে না, বরং আঞ্চলিক ‘Aviation Hub’ হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্প দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও সুশাসন নিশ্চিতকরণ
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মযজ্ঞের ধারাবাহিকতায় দুপুর সাড়ে ১২টায় মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্প এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। প্রশাসনের গতিশীলতা বজায় রাখা এবং সুশাসন বা ‘Good Governance’ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তার সতীর্থদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।
সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই নিয়মিত ও নিবিড় তদারকি সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়াতে ব্যাপক উৎসাহ যোগাচ্ছে। প্রশাসনিক সংস্কার এবং উন্নয়নের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তার প্রতিদিনের এই টানা কর্মসূচিতে।