• রাজনীতি
  • রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি করলে তাদেরও বিচার হবে: জামায়াত আমির

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি করলে তাদেরও বিচার হবে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি করলে তাদেরও বিচার হবে: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচনে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

দুর্নীতিতে জড়িত হলে একজন সাধারণ নাগরিক যেমন বিচারের আওতায় আসবে, তেমনি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী হলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জেলা ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী বিশাল জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন নাটোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ড. মীর নুরুল ইসলাম।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর একটি পক্ষ রাতারাতি চাঁদাবাজির দপ্তর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। দেশের মানুষ আর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও লুটপাট দেখতে চায় না। আগামী ১২ তারিখ সন্ত্রাস ও লুটপাটে জড়িতদের জনগণ লাল কার্ড দেখাবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মদিনার আদলে দেশ গঠন করা হবে।

নারীদের নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। রাত-দিন যেকোনো সময় নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। নারীকে অসম্মান করার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

বেকার সমস্যা সমাধানে জামায়াত আমির বলেন, বেকার ভাতা নয়, বেকারদের সুশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে তোলা হবে, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ পান এবং গর্ব করে নিজেদের বাংলাদেশি বলতে পারে।

তিনি বলেন, যুবকেরা সাহসী ও উদ্যোগী। প্রয়োজন শুধু সুশিক্ষা। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশু এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সব মানুষের সুচিকিৎসার দায়িত্ব সরকার নেবে। এসব বাস্তবায়নে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন নেই। দেশে দুর্নীতি ও ব্যাংক লুট বন্ধ হলেই অর্থসংকট থাকবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি পক্ষ চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। সবাই ভাই ভাই। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হলে পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। প্রত্যেককে তার উপযুক্ত প্রাপ্য সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা না করে শুধু শাস্তির কথা বললে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

জামায়াত আমির বলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে যেন না হয়, সে জন্য জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নাটোরসহ ৬৪ জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিম সবাই একই বাগানের ফুল। কাউকে বঞ্চিত করা হবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, লুটেরা, ব্যাংক ডাকাত ও শেয়ারবাজার লুণ্ঠনকারীরা দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতায় গেলে সেই অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে। যে এলাকা যত বেশি বঞ্চিত, উন্নয়ন কার্যক্রম আগে সেখানে পৌঁছাবে। Natore Jamayat জামায়াত আমির বলেন, ন্যায়বিচার মানে একেকজনের জন্য একেক রকম বিচার নয়। একজন সাধারণ মানুষ যে অপরাধে শাস্তি পাবে, সেই একই অপরাধে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতিকেও একই বিচারের আওতায় আনতে হবে। জাতি সেই বিচার দেখতে মুখিয়ে আছে।

যুবকদের দেশ গড়ার সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রদের কোটা আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। হাজারো ছাত্র-জনতার রক্ত ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে ৫ আগস্ট সরকারের পতন হয়। জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের বিষয়ে কোনো অবহেলা করা হবে না।

তিনি বলেন, সারা দেশে ১১ দলীয় জোটের গণজোয়ার শুরু হয়েছে। নারী ও পুরুষ সত্যের পথে একসঙ্গে রাজপথে নেমেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বার রইলো।

নাটোর জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. সাদেকুর রহমানের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ, নাটোর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী, অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন খান, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাকিম ও আতিকুল ইসলাম রাসেল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক আব্দুল মান্নাফ এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদ হাসান।

বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান নাটোর-১, ২, ৩ ও ৪ আসনের জামায়াত ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন।

এর আগে জামায়াত আমির রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও রাজশাহী থেকে হেলিকপ্টারে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তিনি সমাবেশস্থলে পৌঁছান।

Tags: রাষ্ট্রপতি দুর্নীতি বিচার জামায়াত আমির প্রধানমন্ত্রী