আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-৮ নিয়ে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এই আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণার এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি ভোটের দিন ব্যাপক ‘ঝামেলা’ বা বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত দেন।
মির্জা আব্বাসের এই বিস্ফোরক মন্তব্য রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং নির্বাচনী নিরাপত্তার বিষয়টি ফের সামনে নিয়ে এসেছে।
জামায়াতের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ
ঢাকা-৮ আসনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে মির্জা আব্বাস সরাসরি মিত্র থেকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতে রূপ নেওয়া জামায়াতে ইসলামীকে কাঠগড়ায় তোলেন। তিনি বলেন, ‘এই আসনে ব্যাপকহারে ঝামেলা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের অনুসারীরা যা শুরু করেছে, তাতে নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী মাঠে দুই দলের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই (Political Territory War) সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ‘Security Risk’ বা নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করছে।
স্বল্প সময়ের তফশিল নিয়ে ক্ষোভ
নির্বাচন কমিশনের (EC) পক্ষ থেকে ঘোষিত সময়সীমা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন মির্জা আব্বাস। তিনি মনে করেন, প্রার্থীদের যথাযথ প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘স্বল্প সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা মোটেও ঠিক হয়নি। অতীতে আমরা যখন নির্বাচন করেছি, তখন অন্তত তিন মাস আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু হতো। বর্তমান প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের সাথে বড় ধরনের অন্যায় করা হয়েছে।’
তার মতে, এই দ্রুতগতির নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা (Election Management) লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যালট পেপার ও কমিশনের ভূমিকা
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন স্থানে ব্যালট পেপার ও সিল পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়া নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা তিনি আগেই করেছিলেন। এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা কমিশনকে বলব যাতে তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব (Institutional Bias) না করে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় যেন তারা সর্বোচ্চ সজাগ থাকে।’ তিনি মনে করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘Election Integrity’ বা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখাই কমিশনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ও জনমত
ঢাকা-৮ আসনে হাই-প্রোফাইল প্রার্থীদের লড়াইয়ের কারণে কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান জরুরি বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। মির্জা আব্বাসের এই সতর্কতা কেবল রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ নাকি এর পেছনে কোনো গভীর গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তাপ ও সংঘাতের আশঙ্কা।