জীবন যেন এক চরম নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সম্পূর্ণা লাহিড়ীকে (Sampurna Lahiri)। পিতৃবিয়োগের মাত্র ছয় মাসের মাথায় এবার গর্ভধারিণী মাকেও হারালেন তিনি। মাথার ওপর থেকে অভিভাবকের ছায়া সরে যাওয়ার এই অপূরণীয় ক্ষতি অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনকে বিষাদগ্রস্ত করে তুলেছে। শুক্রবার অভিনেত্রীর এই শোকসংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগী ও বিনোদন জগতের সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাবার শোক কাটতে না কাটতেই নতুন বিপর্যয়
উল্লেখ্য, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রয়াত হন সম্পূর্ণার বাবা, টালিগঞ্জের বর্ষীয়ান অভিনেতা নীলাদ্রি লাহিড়ী (Niladri Lahiri)। ৬৬ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (Heart Disease) পরলোকে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। বাবার প্রয়াণের পর থেকেই মা শারীরিকভাবে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন। দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে মানসিকভাবেও তিনি বিপর্যস্ত ছিলেন। বাবার স্মৃতি বুকে নিয়েই মা লড়াই করছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানলেন তিনিও। বাবার প্রয়াণের ঠিক ছয় মাসের মাথায় মা-ও পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে।
‘তোমরা যেন আলাদা থাকতেই পারলে না...’
মা-বাবার অটুট বন্ধনের কথা স্মরণ করে সামাজিক মাধ্যমে (Social Media) একটি হৃদয়স্পর্শী খোলা চিঠি লিখেছেন সম্পূর্ণা। সেখানে তিনি তাঁদের মধ্যকার সেই গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। সম্পূর্ণা লিখেছেন, “তোমরা দুজন সবসময় একসঙ্গে ছিলে। সারাজীবন আমি তোমাদের মধ্যে সেই অটুট বন্ধন দেখেছি। হয়তো সেই কারণেই বাবা চলে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তোমাকেও চলে যেতে হল মা। তুমি যেন বাবার থেকে আলাদা থাকতেই পারলে না।”
একাকীত্বের যন্ত্রণায় বিদ্ধ অভিনেত্রী
হঠাৎ করেই অভিভাবকহীন হয়ে পড়ার তীব্র যন্ত্রণা সম্পূর্ণাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। জীবনের এই ‘Crucial Phase’-এ এসে নিজেকে বড় অসহায় মনে করছেন তিনি। আবেগঘন পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, “তোমাদের সন্তান হতে পেরে আমি গর্বিত এবং ধন্য মনে করি। আমি জানি তোমরা যেখানেই আছো, শান্তিতে এবং সুখে আছো। কিন্তু তোমাদের ছাড়া আমার জীবন আজ বড় শূন্য মনে হচ্ছে। আমি তোমাদের প্রতিদিন এতটা মিস করি যে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
স্মৃতিই এখন বড় সম্বল
মা-বাবা সশরীরে ছেড়ে গেলেও তাঁরা আত্মিকভাবে সবসময় পাশেই থাকেন—এই ধ্রুব সত্যকে বিশ্বাস করেই সামনে এগিয়ে যেতে চান সম্পূর্ণা। জীবনের সঠিক পথ চলায় মা-বাবার আশীর্বাদ প্রার্থনা করে তিনি লিখেছেন, “দয়া করে আমায় আশীর্বাদ করতে থাকো, আমার পাশে থেকো এবং আমাকে সর্বদা সঠিক পথে পরিচালিত করো। আমি জানি আমাদের আবারও একদিন দেখা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আমি অপেক্ষায় থাকব।”
বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্বরা সম্পূর্ণার এই কঠিন সময়ে তাঁর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রিয়জন হারানোর এই ট্রমা (Trauma) কাটিয়ে অভিনেত্রী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরুন, এমনটাই কাম্য সবার।