• রাজনীতি
  • নির্বাচনী মাঠে সহিংসতার কালো ছায়া: ‘পতিত স্বৈরাচারের’ ষড়যন্ত্র রুখতে ভোটারদের সজাগ থাকার ডাক ড. কাইয়ুমের

নির্বাচনী মাঠে সহিংসতার কালো ছায়া: ‘পতিত স্বৈরাচারের’ ষড়যন্ত্র রুখতে ভোটারদের সজাগ থাকার ডাক ড. কাইয়ুমের

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনী মাঠে সহিংসতার কালো ছায়া: ‘পতিত স্বৈরাচারের’ ষড়যন্ত্র রুখতে ভোটারদের সজাগ থাকার ডাক ড. কাইয়ুমের

ঢাকা-১১ আসনে প্রচারণায় নেমে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘অপকৌশল’ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন বিএনপি প্রার্থী; আবেগ নয়, যোগ্যতায় ভোট দেওয়ার আহ্বান।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর রাজপথ। ঢাকা-১১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এবং বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ড. এম এ কাইয়ুম নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালানোর সময় তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে ‘পতিত স্বৈরাচারের’ দোসরেরা পর্দার আড়ালে সক্রিয় রয়েছে।

ড. কাইয়ুমের এই মন্তব্য নির্বাচনী আমেজে নতুন এক ‘Security Risk’-এর মাত্রা যোগ করেছে, যা নিয়ে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ‘Voter Turnout’-এর গুরুত্ব

নির্বাচনী পথসভায় ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “বিগত দিনে যারা দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, সেই পতিত স্বৈরাচারের সমর্থকরা এখন নির্বাচনকালীন সহিংসতা করার ছক কষছে। তারা চায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে।” তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, ভোটারদের উপস্থিতিই হবে সব ষড়যন্ত্রের মোক্ষম জবাব। তিনি যোগ করেন, “ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উচ্চ ‘Voter Turnout’ থাকলে কোনো অপশক্তিই একটি ‘Fair Election’ বা সুষ্ঠু নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।”

প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘অপকৌশল’ ও ভোটাধিকার রক্ষা

ঢাকা-১১ আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের কার্যকলাপের ওপর কড়া নজর রাখছেন উল্লেখ করে ড. কাইয়ুম বলেন, “ভোটারদের ভোটাধিকার (Voting Rights) বিঘ্নিত করতে কোনো প্রকার অপকৌশল বা কারচুপি সহ্য করা হবে না। এই আসনে আমার বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীরা যে ধরনের চাল চালার চেষ্টা করছেন, সাধারণ জনগণ তা ধরে ফেলেছে। ১১ আসনের সচেতন মানুষ এবার কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করবে না।”

তিনি নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান যাতে নির্বাচনের দিন প্রতিটি ‘Polling Station’-এ কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং ভোটারদের অবাধ যাতায়াত নির্বিঘ্ন থাকে।

আবেগ নয়, চাই ‘Tested Leadership’

নির্বাচনী প্রচারণায় ড. কাইয়ুম ভোটারদের বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “নির্বাচন কোনো আবেগের বিষয় নয়। আপনারা কাকে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান, তা ঠান্ডা মাথায় ভাবুন। আবেগের বশবর্তী হয়ে ভোট না দিয়ে একজন পরীক্ষিত ও যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিন, যিনি দুর্দিনেও আপনাদের পাশে ছিলেন।”

নেতৃত্বের গুণাবলী (Leadership Quality) এবং বিগত দিনের রাজনৈতিক ট্র্যাক রেকর্ড বিবেচনা করে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার জন্য তিনি বাড্ডা ও রামপুরাবাসীকে উৎসাহিত করেন।

মাঠে সরব নেতা-কর্মীরা

মেরুল বাড্ডার প্রচারণায় ড. কাইয়ুমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এই সময় এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নেতা-কর্মীরা ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট চেয়ে স্লোগান দেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন। ড. কাইয়ুম প্রতিটি দোকানে এবং বাসাবাড়িতে গিয়ে মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-১১ আসনে ড. কাইয়ুমের এই সরাসরি অবস্থান এবং ‘Election Integrity’ নিয়ে সোচ্চার হওয়া মূলত ভোটারদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি স্ট্র্যাটেজি। এখন দেখার বিষয়, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য এই মহাযুদ্ধে ব্যালট বক্স কার পক্ষে রায় দেয়।