• জাতীয়
  • ইনকিলাব মঞ্চের আহতরা কেউ গুলিবিদ্ধ নন: ঢামেক পরিচালক

ইনকিলাব মঞ্চের আহতরা কেউ গুলিবিদ্ধ নন: ঢামেক পরিচালক

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৬০ জনের মতো ব্যক্তি ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। লাঠির আঘাত ও টিয়ারসেলের কারণেই অধিকাংশ ইনজুরি, গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবি নাকচ করলেন পরিচালক।

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ইনকিলাব মঞ্চের আহতরা কেউ গুলিবিদ্ধ নন: ঢামেক পরিচালক

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে অবস্থান নেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৬০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে আহতদের মধ্যে কোনো গুলিবিদ্ধ বা পিলেট ইনজুরির রোগী নেই। আহতদের মূলত লাঠির আঘাত এবং টিয়ারসেলের কারণে সৃষ্ট ইনহেলেশন ইনজুরি রয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চ কর্মীদের চিকিৎসা ও আঘাতের প্রকৃতি

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে জানান, ইনকিলাব মঞ্চের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এখনও রোগী আসছে। তাদের মধ্যে ৩০ জনের 'এক্সটারনাল ইনজুরি' রয়েছে, তবে কেউই গুলিবিদ্ধ বা পিলেট ইনজুরির রোগী নন।

পরিচালক আরও জানান, আহতদের আঘাতের মধ্যে রয়েছে স্কাল্প ইনজুরি, ফেস ইনজুরি, পায়ের ইনজুরি এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানের ইনজুরি—যা লাঠির আঘাতে হয়েছে। এছাড়াও অনেকের টিয়ারসেলের কারণে ইনহেলেশন ইনজুরি হয়েছে, যাদের অক্সিজেন দিয়ে মোটামুটি সুস্থ করা হয়েছে। তবে গুরুতর না হওয়ায় এখন পর্যন্ত কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েই অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের প্রস্তুতি ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ সমস্যা

হাসপাতালের প্রস্তুতি নিয়ে পরিচালক বলেন, তাঁদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে এবং প্রায় ২০০ চিকিৎসক উপস্থিত আছেন। চিকিৎসক, নার্স বা স্টাফের কোনো স্বল্পতা নেই। জরুরি বিভাগকে এমনভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে একসাথে ২৫ জন রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ (ক্রাউড কন্ট্রোল) করাটা একটা বড় সমস্যা। এক রোগীর সাথে ১০ থেকে ১৫ জন চলে আসায় চিকিৎসা কার্যক্রমে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

সংঘর্ষ ও ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান

জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে যমুনার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।

পরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে অবস্থানরত কর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রথমে জলকামান, পরে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং লাঠিপেটা করে। ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবির খণ্ডন

সংঘর্ষের পরপরই ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তবে পুলিশ ও অন্তর্বর্তী সরকার উভয় পক্ষই এই দাবি অস্বীকার করেছে। ঢামেক পরিচালকের ব্রিফিংয়ের মাধ্যমেও সেই দাবি অসত্য প্রমাণিত হলো। উল্লেখ্য, গত বছর ১২ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়ে পরে সিঙ্গাপুরে মারা যান শরিফ ওসমান বিন হাদি।

Tags: bangladesh news injury dhaka medical college sharif osman hadi inkilab mancha police clash tear gas