‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার টু’-এর অবিশ্বাস্য সাফল্যের পর দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষা। কন্নড় সুপারস্টার যশ এবার ফিরছেন এক বিধ্বংসী অবতারে। সিনেমার নাম ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’। বড় পর্দায় আসার আগেই এই সিনেমাটি ভারতীয় চলচ্চিত্র বাজারে যে কম্পন সৃষ্টি করেছে, তা রীতিমতো নজিরবিহীন। বিশেষ করে ডিস্ট্রিবিউশন রাইটস বা স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছে ছবিটি।
তেলুগু বাজারে ১২০ কোটির ঐতিহাসিক চুক্তি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ‘টক্সিক’ সিনেমার তেলুগু ডিস্ট্রিবিউশন রাইটস বা স্বত্ব বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ১২০ কোটি রুপিতে। কোনো কন্নড় অভিনেতার সিনেমার জন্য এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর। প্রখ্যাত প্রযোজক দিল রাজুর প্রতিষ্ঠান ‘শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর ক্রিয়েশনস’ এই বিপুল অংকে সিনেমাটির স্বত্ব কিনে নিয়েছে। ভারতীয় চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় যশের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই এই চড়া মূল্যের নেপথ্য কারণ।
প্রযোজক দিল রাজু সংবাদমাধ্যমকে জানান, “কেজিএফ ফ্র্যাঞ্চাইজির পর যশের জনপ্রিয়তা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে ভক্তরা তার বড় পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। ‘টক্সিক’ নিয়ে যে উন্মাদনা আমরা দেখছি, তা ব্যবসা সফল হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।”
টিজার ঘিরে বিতর্ক ও সেন্সর বোর্ডের নজরদারি গত ৮ জানুয়ারি যশের জন্মদিন উপলক্ষে মুক্তি পায় ‘টক্সিক’-এর একটি সংক্ষিপ্ত টিজার। অ্যাকশন আর রহস্যে ঘেরা সেই ঝলক যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি জন্ম দিয়েছে বিতর্কের। টিজারের একটি দৃশ্যে যশের সঙ্গে এক নারীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত এবং পরবর্তীতে নির্বিচারে গুলি চালানোর দৃশ্য নিয়ে আপত্তি তুলেছে কর্ণাটক রাজ্য নারী কমিশন। বিষয়টি বর্তমানে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)-এর বিচারাধীন। নারী কমিশনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বোর্ডকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিতর্ক সিনেমার হাইপ বা প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলার বদলে দর্শক মহলে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তারকাবহুল কাস্টিং ও দক্ষ নির্মাণ গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই সিনেমাটি শুধুমাত্র যশের উপস্থিতির কারণেই আলোচিত নয়, বরং এর কাস্টিং লিস্টও অত্যন্ত নজরকাড়া। ‘টক্সিক’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে দক্ষিণ ভারতের লেডি সুপারস্টার নয়নতারাকে। এছাড়া বলিউড থেকে যুক্ত হয়েছেন কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি ও তারা সুতারিয়া। আরও রয়েছেন রুক্মিণী বসন্ত, অক্ষয় ওবেরয় এবং সুদেব নায়ারের মতো পরিচিত মুখেরা।
প্যান-ইন্ডিয়া রিলিজ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কেভিএন প্রোডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘টক্সিক’ মূলত কন্নড় ও ইংরেজি—এই দুই ভাষায় একসঙ্গে শুটিং করা হয়েছে। তবে প্যান-ইন্ডিয়া অডিয়েন্সের কথা মাথায় রেখে এটি বাংলা, হিন্দি, তামিল ও তেলুগু ভাষাতেও ডাবিং করে মুক্তি দেওয়া হবে। সিনেমার ট্যাগলাইন ‘আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এটি সাধারণ রূপকথা নয়, বরং ডার্ক থ্রিলার ঘরানার একটি সিনেমা হতে যাচ্ছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত এই সিনেমাটি। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের ধারণা, অগ্রিম বুকিং এবং রাইটস বিক্রির যে জোয়ার শুরু হয়েছে, তাতে মুক্তির প্রথম দিনেই বহু রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে যশের ‘টক্সিক’।