গত কয়েক মাস ধরেই টলিউডের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছিল এক সময়ের সুখী দম্পতি যিশু সেনগুপ্ত ও নীলাঞ্জনা শর্মার সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা। দীর্ঘ দুই দশকের দাম্পত্য জীবন কি তবে খাদের কিনারায়? এই প্রশ্নই যখন ঘুরপাক খাচ্ছিল অনুরাগীদের মনে, ঠিক তখনই অভিনেত্রী তথা প্রযোজক নীলাঞ্জনা শর্মার একটি সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢালল। তাঁর লেখায় স্পষ্ট বিচ্ছেদের সুর এবং এক নতুন শুরুর ইঙ্গিত।
বিচ্ছেদের গুঞ্জন ও নীলাঞ্জনার গভীর বার্তা
জনপ্রিয় অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত এবং নীলাঞ্জনার বিয়ের বয়স প্রায় ২০ বছর। টলিপাড়ার অন্যতম স্থিতিশীল এবং প্রভাবশালী জুটি বা ‘Power Couple’ হিসেবে তাঁদের গণ্য করা হতো। তবে বেশ কিছু সময় ধরে তাঁদের আলাদা থাকার খবর শিরোনামে আসছিল। শোনা যাচ্ছিল, তাঁদের সাজানো সংসারে কোনো ‘তৃতীয় ব্যক্তি’র প্রবেশ ঘটেছে, যার ফলে দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কে ভাঙন ধরেছে।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টে নীলাঞ্জনা লিখেছেন, “কখনো কখনো কোনো বিষয় শেষ হয় এর অর্থ হারিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, বরং এই কারণে যে সেটি আমাদের আর নতুন কিছু দেওয়ার থাকে না। এই অধ্যায় যখন শেষ হচ্ছে, আমি কেবলই কৃতজ্ঞতা অনুভব করছি।” তাঁর এই বার্তার প্রতিটি ছত্রে ছিল এক শান্ত অথচ দৃঢ় মানসিকতার প্রতিফলন।
আত্মসম্মান ও নতুন সত্তার খোঁজ
নীলাঞ্জনা তাঁর পোস্টে আরও গভীর জীবনদর্শনের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, এই দীর্ঘ সফর তাঁকে নিজের মর্যাদা ধরে রাখতে শিখিয়েছে এবং যে স্বাধীনতা তিনি পেয়েছেন, তা তাঁকে আজকের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি লেখেন, “আমি যখন নিজেকে চিনতাম না, সেই সময় আমায় যে মর্যাদা ধরে রাখতে শিখিয়েছে, যে আত্মসম্মান জাগিয়েছে, তা এখন আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ (Non-negotiable) হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
প্রাক্তন এই অভিনেত্রী আরও যোগ করেন যে, এই সমাপ্তি তাঁকে ভেতর থেকে রিক্ত করেনি। বরং তিনি এই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতা, সাহস এবং প্রবল আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন। হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে এবং পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গেই তিনি এই ‘সমাপ্তি’কে গ্রহণ করছেন বলে জানিয়েছেন।
পেশাদার জীবনে বড় পরিবর্তন
ব্যক্তিগত জীবনের এই টানাপোড়েনের মাঝেই পেশাদার ক্ষেত্রেও যিশু ও নীলাঞ্জনার পথ আলাদা হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। একটা দীর্ঘ সময় যিশু সেনগুপ্তের কেরিয়ারের যাবতীয় পরিকল্পনা ও ম্যানেজমেন্ট দেখতেন নীলাঞ্জনা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যিশু অভিনেতা সৌরভ দাসের সঙ্গে মিলে নতুন প্রোডাকশন হাউজ বা প্রযোজনা সংস্থা তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, নীলাঞ্জনা ব্যস্ত তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘নিনি চিনিস মাম্মা’ (Ninni Chinni’s Mamaa) নিয়ে।
যিশু সেনগুপ্তকে দর্শক শেষবার সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখেছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতেও এখন তাঁর প্রবল ব্যস্ততা। কিন্তু কেরিয়ারের এই মধ্যগগনে ব্যক্তিগত জীবনের এই ছন্দপতন টলিপাড়ার অনেককেই ব্যথিত করেছে।
এখনও পর্যন্ত বিচ্ছেদ নিয়ে যিশু সেনগুপ্তের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে নীলাঞ্জনার এই পোস্ট যেন অলিখিতভাবেই দুই তারকার আলাদা হয়ে যাওয়ার পথে সিলমোহর দিল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।