আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে নিরাপত্তার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও নাশকতা মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ে নিজেদের সক্ষমতা ও তৎপরতা প্রদর্শন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশ ও বিজিবিকে সঙ্গে নিয়ে এই বিশেষ মহড়া সম্পন্ন করে সেনাবাহিনী।
যৌথ মহড়া ও কৌশলগত টহল (Strategic Patrolling)
পঞ্চগড় আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহড়াটি মূলত ছিল একটি সমন্বিত নিরাপত্তা মহড়া। এদিন দুপুরের দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলা ও আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর ভারি যান ও কমান্ডো সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মহড়া চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা যেমন—পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-এর সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়। সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফেরানো এবং বিশৃঙ্খলাকারীদের প্রতি কঠোর বার্তা দেওয়াই ছিল এই টহল বা ‘Patrolling’-এর মূল লক্ষ্য।
নিরাপত্তার চাদরে ভোটকেন্দ্র ও স্থাপনা
সেনা সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে জেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার (Key Point Installations) নিরাপত্তা নিশ্চিদ্র করতে তারা ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুত’ রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম সীমান্ত এলাকা এবং জনাকীর্ণ বাজারগুলোতে সেনাবাহিনীর বিশেষ নজরদারি (Surveillance) বাড়ানো হয়েছে।
পঞ্চগড় আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক স্থানীয় গণমাধ্যমকে এই অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, “নির্বাচনকালীন সময়ে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা রুখে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। পঞ্চগড় জেলায় আমরা একাধিক স্তরের একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় (Multi-layered Security Grid) গড়ে তুলেছি।”
জিরো টলারেন্স ও নজরদারি
সেনা কমান্ডার আরও উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র মহড়া নয়, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেনাবাহিনী ‘Strike Force’ হিসেবে কাজ করবে। যেকোনো সহিংসতা বা নাশকতার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হাতে দমনে ‘Zero Tolerance’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
ভোটের মাঠে আস্থার পরিবেশ
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় এবং দেশব্যাপী মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীর অংশ হিসেবে পঞ্চগড়ে ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের এই তৎপরতা ভোটারদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবেষ্টিত জেলা হওয়ার কারণে পঞ্চগড়ে নাশকতার ঝুঁকি থাকে। সেনাবাহিনীর এমন সময়োপযোগী মহড়া ও কৌশলগত মোতায়েন (Strategic Deployment) সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুগম করবে।
বর্তমানে পুরো জেলাজুড়ে সেনাবাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘Quick Reaction Team’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।