ভোলার রাজপথে আবারও একাত্তরের সেই তেজদীপ্ত চেতনা। তবে এবার হাতে অস্ত্র নয়, বরং ব্যালটের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে রুখে দেওয়ার ডাক দিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। মুক্তিযুদ্ধের অমলিন চেতনা বাস্তবায়ন এবং একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভোলা জেলা ইউনিট। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের নতুন বাজার মুক্তিযোদ্ধা অফিস প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য ট্রাক ও মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই বিশেষ ‘Election Campaign’ বা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তারা।
ভোটের লড়াইয়ে আদর্শিক লড়াই মুক্তিযোদ্ধাদের এই কর্মসূচি কেবল একটি শোভাযাত্রা নয়, বরং ভোটারদের মধ্যে ‘Political Awareness’ বা রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরির একটি বড় উদ্যোগ। শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের প্রার্থীদের ভোট দেওয়া সময়ের দাবি। ট্রাক শোভাযাত্রাটি জেলার ৬টি উপজেলা প্রদক্ষিণ করবে এবং পথসভা ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাধীনতাবিরোধীদের বর্জনের আহ্বান জানাবে।
আঞ্চলিক উন্নয়নের চার দফা রোডম্যাপ নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি ভোলার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিরসনে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। এই দাবিগুলো স্থানীয় অর্থনীতি এবং ‘Infrastructure Development’-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. ভোলা-বরিশাল সেতু বাস্তবায়ন: দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এই মেগা প্রজেক্টের দ্রুত বাস্তবায়ন চান মুক্তিযোদ্ধারা। ২. মেডিকেল কলেজ স্থাপন: ভোলার সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা বা ‘Healthcare Access’ নিশ্চিত করতে জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। ৩. ভোলার গ্যাস ভোলায় চাই: স্থানীয় শিল্পায়ন ও ‘Energy Security’ নিশ্চিত করতে ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস আগে ভোলার মানুষের কাজে লাগানোর দাবি তোলা হয়েছে। ৪. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন: সর্বস্তরে অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা সুসংহত করা।
নেতৃবৃন্দের জোরালো অবস্থান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভোলা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমরা চাই এমন একটি সংসদ, যেখানে স্বাধীনতাবিরোধীদের কোনো ঠাঁই হবে না। দেশের উন্নয়ন ও ভোলার মৌলিক দাবিগুলো যারা বাস্তবায়ন করবে, আমরা তাদের পাশে আছি।”
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান এক আবেঘন বক্তব্যে বলেন, “কে কোন দল করে তা বড় কথা নয়, আমাদের মূল মানদণ্ড হতে হবে মহান মুক্তিযুদ্ধ। যারা দেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করে না, তাদের একটি ভোটও দেওয়া উচিত নয়। আমরা সাধারণ ভোটারদের এই সত্যটিই মনে করিয়ে দিতে রাজপথে নেমেছি।”
ভোলার সাধারণ মানুষের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের এই ‘Public Outreach’ বা গণসংযোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, উন্নয়নের চার দফা দাবির সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের এই রাজনৈতিক অবস্থান ভোলার নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।