• রাজনীতি
  • ‘মালিক নয়, জনগণের চৌকিদার হতে চাই’: সিলেটে বিশাল জনসমুদ্রে ৫ বছরের রূপরেখা দিলেন জামায়াত আমির

‘মালিক নয়, জনগণের চৌকিদার হতে চাই’: সিলেটে বিশাল জনসমুদ্রে ৫ বছরের রূপরেখা দিলেন জামায়াত আমির

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘মালিক নয়, জনগণের চৌকিদার হতে চাই’: সিলেটে বিশাল জনসমুদ্রে ৫ বছরের রূপরেখা দিলেন জামায়াত আমির

৫ আগস্টের পর প্রতিশোধের রাজনীতি বিসর্জন ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার ডা. শফিকুর রহমানের; বিশেষ গুরুত্ব পেলেন প্রবাসী ও তরুণ প্রজন্ম।

ঐতিহাসিক আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের পুণ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে এক আবেগঘন ও বলিষ্ঠ রাজনৈতিক বার্তা দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষের ওপর প্রভুত্ব করবে না, বরং পাহারাদারের ভূমিকা পালন করবে। ‘সিলেটের সন্তান’ হিসেবে নিজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি আসন্ন নির্বাচনে জনগণের কাছে একবার সুযোগ প্রার্থনা করেন।

‘মালিক নয়, আমরা হবো সেবক’

বিশাল জনসমুদ্রে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি এই মাটিরই সন্তান। আজ আপনাদের সামনে কোনো দলের প্রধান হিসেবে নয়, বরং আপনাদেরই একজন হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একবার সুযোগ দিন। আমরা দেশের মালিক সেজে আপনাদের শাসন করতে চাই না, আমরা হতে চাই জনগণের ‘চৌকিদার’। প্রত্যেকের নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।”

তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, যদি জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তবে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে বদলে যাবে দেশের মানচিত্র। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি ‘Smart & Dynamic’ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই।

ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐতিহ্য ও প্রতিশোধমুক্ত রাজনীতির ডাক

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর লড়াইয়ের ঐতিহ্য স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, “ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস সিলেটের রক্তে মিশে আছে। আমরা সেই ঐতিহ্যেরই উত্তরসূরি। গত ৫৪ বছর ধরে এদেশে জুলুমের রাজনীতি চলছে, যার সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা প্রতিশোধের পথ বেছে নেইনি। অনেকে ‘মামলা বাণিজ্য’ বা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হলেও জামায়াত তার আদর্শে অটল রয়েছে।”

সিলেটের আঞ্চলিক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক মানদণ্ড

সিলেটের খনিজ সম্পদ ও প্রবাসীদের অবদান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সিলেটের মানুষ তাদের ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে না। ডা. শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে নদী খনন করে একে ‘নদীবান্ধব’ দেশে রূপান্তর করব। মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে সিলেটকে মুক্ত করা হবে।”

বিশেষ করে প্রবাসীদের সুবিধার্থে তিনি ‘Civil Aviation’ খাতের আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন কেবল নামেই আন্তর্জাতিক। আমরা একে সত্যিকারের ‘International Hub’ হিসেবে গড়ে তুলব, যাতে প্রবাসীরা সরাসরি এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ যাতায়াত করতে পারেন।”

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সুশাসনের অঙ্গীকার

সুশাসনের প্রশ্নে ডা. শফিকুর রহমান ‘Zero Tolerance’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “অফিস-আদালতে ঘুষ নেওয়া বা প্রকাশ্য দিবালোকে চাঁদাবাজি করার দিন শেষ হবে। আমরা ক্ষমতায় থাকলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বা ‘Transparency’ নিশ্চিত করা হবে। যারা গত ৫৪ বছর ধরে দেশের টাকা লুটপাট করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।”

সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জনসভার শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান সিলেটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের জনসম্মুখে পরিচয় করিয়ে দেন এবং জনগণের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই ‘চৌকিদার’ তত্ত্ব এবং পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

Tags: good governance shafiqur rahman anti corruption sylhet news public servant election 2026 jamaat rally election pledge aviation infrastructure youth dreams