পবিত্র রমজান মাস দরজায় কড়া নাড়ছে। প্রতিবছর এই সময়টাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও এবার রাজধানীর ডাল ও ছোলার বাজারে বইছে উল্টো হাওয়া। গত বছরের তুলনায় এবার ছোলা, মুগডাল ও বেসনের দাম অনেকটা কমে আসায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি কাজ করছে। তবে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত ‘Supply’ বা সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আমেজ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে রমজানকেন্দ্রিক প্রথাগত কেনাকাটা এখনো সেভাবে জমে ওঠেনি।
ছোলার বাজারে বড় স্বস্তি: গত বছরের চেয়ে দাম কম
রাজধানীর বৃহত্তম পাইকারি বাজার কারওয়ানবাজারের খুচরা বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার ভালো মানের ছোলা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। গত বছর ঠিক এই সময়ে ছোলার বাজারমূল্য বা ‘Market Value’ ছিল কেজিপ্রতি ১০০ টাকার উপরে। ছোলার পাশাপাশি ছোলার ডালের দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি ইতিবাচক খবর।
মুগডাল ও বেসনের দরে পতন
ইফতারের অপরিহার্য উপাদান বেসন ও মুগডালের দামেও দেখা গেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। বর্তমানে বাজারে এক কেজি মুগডাল পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে, যা গত বছর ছিল ১১৫ থেকে ১৬০ টাকা। অন্যদিকে, বেসনের দাম গত বছরের ১০০-১৬০ টাকা থেকে কমে বর্তমানে ৬০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকা এবং বাজারে পণ্যের মজুত পর্যাপ্ত হওয়ায় এই দরপতন সম্ভব হয়েছে।
বাজার চিত্র: স্বস্তির মাঝেও ‘নির্বাচনী’ মন্দা
পণ্যের দাম কমলেও বিক্রেতাদের মুখে হাসি নেই। কারণ হিসেবে তারা বলছেন ‘নির্বাচনী আবহ’ বা Election Dynamics। সাধারণত রমজানের মাসখানেক আগে থেকেই পাইকারি ও খুচরা বাজারে যে ভিড় থাকে, এবার তা অনুপস্থিত। ব্যবসায়ীদের মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষ অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে চাইছে অথবা বড় ধরনের কেনাকাটা থেকে বিরত থাকছে।
কারওয়ানবাজারের একজন প্রবীণ বিক্রেতা জানান, “ছোলা, সয়াবিন তেল, খেসারি বা চিনির মজুত এবার বেশ ভালো। গত বছরের মতো এবার বাজারে পণ্যের সংকট নেই। কিন্তু ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। নির্বাচনী উত্তাপের কারণে বাজারের স্বাভাবিক গতি অনেকটা মন্থর হয়ে পড়েছে।”
ব্যতিক্রম কেবল মসুর ডাল
ডাল-ছোলার সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি থাকলেও কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মসুর ডাল। গত বছর ফেব্রুয়ারির শুরুতে মসুর ডাল ১০৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও এবার তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত। মানের পার্থক্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দাম গত বছরের তুলনায় সামান্য বেশি বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।
ভোক্তাদের প্রত্যাশা ও বাজার তদারকি
বাজারে আসা সাধারণ ভোক্তারা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক। তবে তাদের শঙ্কা, রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, সুযোগসন্ধানী সিন্ডিকেটগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে পণ্যের যে ‘Price Stability’ বা স্থায়িত্ব রয়েছে, তা বজায় রাখতে হলে সরকারি বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারি প্রয়োজন।
নির্বাচনী ব্যস্ততার সুযোগে কোনো অসাধু চক্র যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে, দাম কম থাকায় ক্রেতারা খুশি হলেও বাজার পূর্ণ গতি কবে ফিরে পাবে, তা নির্ভর করছে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।