প্রস্তাবিত ‘শিক্ষা আইন ২০২৬’ দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগে শিক্ষা অধিকার সংসদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।
বিস্তৃত আলোচনা ও ঐকমত্যের অভাব বিবৃতিতে শিক্ষা অধিকার সংসদ বলেছে, শিক্ষা আইন একটি বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন বিষয় এবং এর জন্য বিস্তৃত নাগরিক আলোচনা ও প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তড়িঘড়ি করে এটি অনুমোদন পেলে গণতান্ত্রিক আলোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। জুলাই ২০২৪-এর পরবর্তী সময়ে একটি স্বাধীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে সামগ্রিক পর্যালোচনার যে সুযোগ ছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
খসড়া আইনে চিহ্নিত দুর্বলতা শিক্ষা অধিকার সংসদ খসড়া আইনটির বেশ কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, প্রস্তাবিত আইনে ভবিষ্যৎমুখী সংস্কার বা কাঠামোগত পরিবর্তনের চেয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থারই প্রাধান্য বেশি। এছাড়া, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিধিমালার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা মূল আইনের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে। সংজ্ঞাগত অস্পষ্টতা ও শাসন কাঠামোর অনির্দিষ্টতার কারণে ভবিষ্যতে নীতিগত সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
আইন প্রণয়নের মূল লক্ষ্য সংগঠনটির মতে, শিক্ষা আইন প্রণয়নের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বিদ্যমান প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর করে আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা। অধ্যাপক এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, "গত দেড় বছর ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনায় শিক্ষা খাত সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। তড়িঘড়ি করে প্রণীত আইন দুর্বল ও সীমাবদ্ধ হতে বাধ্য।"
শিক্ষা অধিকার সংসদের প্রস্তাব শিক্ষা অধিকার সংসদ প্রস্তাব করেছে যে, এই আইনটি বর্তমানে অনুমোদন না দিয়ে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া হোক। এতে সব অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি শক্তিশালী, টেকসই ও সর্বজনগ্রাহ্য শিক্ষা আইন প্রণয়ন সম্ভব হবে বলে তারা বিশ্বাস করে।