রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শাহবাগ থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়।
এমন কর্মসূচির পেছনে নতুন কোনও প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নে আয়োজকদের একজন ইসাবা শুহরাত শাহবাগে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রেক্ষাপট আসলে কখনও বদলায়নি। আমরা আশা করছি সামনে একটি নতুন নির্বাচিত সরকার আসবে। যারা-ই আসুক না কেন, তারা আমাদের কথা শুনবে। পাশাপাশি যারা নারীবিদ্বেষী প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা যেন নির্বাচিত হতে না পারে—এই দাবিও আমাদের।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভোটে যারা জয়ী হবে, তারা যেন আমাদেরই কথা বলে—এই প্রত্যাশা জানাতেই আমরা এখানে।’
অধিকারকর্মী মার্জিয়া প্রভা বলেন, ‘সম্প্রতি জামায়াতের আমির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। এর আগেও তিনি বলেছেন, নারী নেতৃত্বকে তারা হারাম মনে করেন এবং তাদের দলে কখনও নারী আমির হবেন না।’
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং আমাদের সংবিধান যেখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলছে, সেখানে এমন বক্তব্য সরাসরি গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—নারীবিদ্বেষী যে দল, সে দল আমাদের ভোট পাবে না।’
‘শেকল ভাঙার পদযাত্রা’ কেন প্রয়োজন—এ বিষয়ে সংগীতশিল্পী সায়ান বলেন, ‘প্রয়োজন আসলে অনেকদিন ধরেই আছে। যতদিন পুরুষতন্ত্র থাকবে, সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে না এবং নারীর ওপর নিপীড়ন চলবে, ততদিন এই ধরনের আয়োজনের প্রয়োজন থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে রাতের কর্মসূচি, খেলাধুলা, গান-বাজনাসহ সব ক্ষেত্রে নারীর স্বাভাবিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতেই এই আয়োজন। যেসব অধিকার এখনও অর্জিত হয়নি, সেগুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং সেই দাবিগুলো সামনে আনতেই আমরা এই মিছিলে অংশ নিয়েছি।’