দেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা, উন্নয়ন প্রকল্প ও জনপদ সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা না থাকা নেতৃত্ব কীভাবে জনগণকে মুক্তি দেবে—সেই প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন।
উন্নয়ন বনাম অজ্ঞতা: বিরোধীদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ব্যবচ্ছেদ
জনসভায় আসিফ মাহমুদ বিরোধীদের নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া বিভিন্ন তথ্যের অসংগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অনেকেই নির্বাচনের সময় সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু তারা দেশের মাঠপর্যায়ের অবস্থা বা ‘Ground Reality’ সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞ। তারা নীলফামারীতে গিয়ে বলছেন সেখানে মেডিকেল কলেজ করে দেবেন, অথচ সেখানে আগে থেকেই একটি মেডিকেল কলেজ বিদ্যমান। কুমিল্লায় ৩৫ বছর ধরে ইপিজেড (EPZ) চালু থাকলেও তারা সেখানে নতুন করে ইপিজেড করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।”
ময়মনসিংহের কৃষি প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও যোগ করেন, “যেখানে ভুট্টা চাষ হয়, সেখানে তারা বলছেন সয়াবিন চাষের কথা। যারা দেশের জেলাগুলোর সম্পদ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জানেনই না, তারা এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সংকটের হাত থেকে কীভাবে উদ্ধার করবেন?”
১২ ফেব্রুয়ারির ‘পলিটিক্যাল শিফট’ ও জনগণের রায়
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের রাজনীতিতে আরও একটি বড় ‘Political Shift’ বা পটপরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। তবে সেই পরিবর্তন ইতিবাচক হবে নাকি নেতিবাচক, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে এ দেশের সাধারণ মানুষকে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যেই ১২ তারিখের পর থেকে প্রকাশ্যে ‘চাঁদাবাজি’ শুরু করার ঘোষণা দিচ্ছে। ভোটের মাধ্যমে এই অশুভ শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান তিনি।
মাঠের নেতৃত্ব বনাম বিদেশের আরাম-আয়েশ
নির্বাচনে নেতৃত্বের যোগ্যতার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপি নেতা বলেন, “জনগণকে বেছে নিতে হবে—আপনারা কাদের রায় দেবেন? যারা অলিগলি থেকে উঠে আসা, রাজপথের লড়াই থেকে উঠে আসা এবং গণ-অভ্যুত্থানের অগ্নিগর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া নেতৃত্ব; নাকি যারা বিদেশে বিলাসিতায় বেড়ে উঠেছেন এবং এ দেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা রাখেন না।”
তিনি দাবি করেন, গত ১৭ মাসের কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত হয়েছে কোন পক্ষ জনগণের প্রকৃত বন্ধু। ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা গত দেড় বছর ধরে প্রতিটি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছেন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে একতাবদ্ধ হয়েছেন। পক্ষান্তরে, বিরোধী পক্ষ ভাগবাটোয়ারা ও ‘Power Sharing’-এর আশায় প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইনসাফ কায়েমের আহ্বান
বক্তব্যের শেষে আসিফ মাহমুদ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে ‘Justice’ এবং ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরাই সবথেকে যোগ্য। নির্বাচনী জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে একটি নতুন ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।