• খেলা
  • অঘটনের খুব কাছে নেপাল! ওয়াংখেড়েতে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল ইংল্যান্ডের

অঘটনের খুব কাছে নেপাল! ওয়াংখেড়েতে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল ইংল্যান্ডের

খেলা ১ মিনিট পড়া
অঘটনের খুব কাছে নেপাল! ওয়াংখেড়েতে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল ইংল্যান্ডের

হিমালয়ের দেশটির দাপটে কাঁপল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা; ৪ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল জস বাটলারের দল।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) যেন পচা শামুকে পা কাটার উপক্রম হচ্ছে ক্রিকেটের বড় শক্তিগুলোর। গতকাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাকিস্তান কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ভারতের ঘাম ঝরানো জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ বড় ধরনের অঘটনের মুখে পড়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে হারতে হারতে শেষ পর্যন্ত ৪ রানের ঘামঝরানো জয় পেয়েছে জস বাটলারের দল। তীরে এসে তরী ডুবলেও বিশ্বমঞ্চে বীরত্বগাঁথা লিখেছে হিমালয়ের দেশটি।

বেথেল-ব্রুকের ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গ্রুপ ‘সি’-এর গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও মিডল অর্ডারে জ্যাকব বেথেল ও হ্যারি ব্রুকের জোড়া অর্ধশতকে (Half-century) ঘুরে দাঁড়ায় ইংলিশরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় তারা। নেপালি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এক পর্যায়ে মনে হয়েছিল স্কোরটি ২০০ ছাড়াবে না, আর ঠিক সেটিই করে দেখান নেপালের বোলাররা।

নেপালের অদম্য লড়াই ও জয়ের স্বপ্ন

১৮৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেপাল যে এমন প্রত্যাঘাত করবে, তা হয়তো অতি বড় ইংলিশ সমর্থকও ভাবেননি। ওপেনিং জুটিতে দারুণ শুরুর পর মিডল অর্ডারে দীপেন্দ্র সিং আইরি এবং লোকেশ বমের বিধ্বংসী ব্যাটিং ইংল্যান্ডের বোলিং লাইনআপকে ছন্নছাড়া করে দেয়। বিশেষ করে দীপেন্দ্রর পাওয়ার হিটিং দর্শকদের রোমাঞ্চিত করে তোলে। ম্যাচের শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য নেপালের সমীকরণ ছিল হাতের নাগালে, যা গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মনে অঘটনের কাঁপন ধরিয়ে দেয়।

স্যাম কারানের ‘ডেথ ওভার’ ম্যাজিক

ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভারে। জয়ের জন্য নেপালের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রান, হাতে ৪ উইকেট। স্ট্রাইক প্রান্তে মারকুটে ব্যাটার লোকেশ বম। অধিনায়ক জস বাটলার বল তুলে দেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার স্যাম কারানের হাতে। স্নায়ুক্ষয়ী সেই ‘ডেথ ওভারে’ (Death Over) কারান নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি মেলে ধরেন। প্রথম পাঁচ বলে মাত্র ৫ রান খরচ করে নেপালকে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দেন তিনি। শেষ বলে ছক্কার প্রয়োজন থাকলেও তা নিতে ব্যর্থ হন ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮০ রানে থামে নেপালের ইনিংস।

ক্রিকেট বিশ্বের উদীয়মান শক্তি নেপাল

মাত্র ৪ রানের এই হার নেপালের জন্য আক্ষেপের হলেও বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের উত্থানের এক জোরালো বার্তা দিয়ে রাখল। আইসিসির সহযোগী সদস্য (ICC Associate Member) হয়েও কিছুদিন আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজ হারানো এবং আজ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে খাদের কিনারে নিয়ে যাওয়া প্রমাণ করে—নেপাল এখন আর ‘মিনোজ’ বা ছোট দল নয়। অন্যদিকে, জয় পেলেও ইংল্যান্ডের দুর্বল বোলিং এবং ফিল্ডিং নিয়ে নতুন করে ভাবার অবকাশ তৈরি হয়েছে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডের আগে।

Tags: match report cricket news sam curran t20 world cup wankhede stadium england vs nepal harry brook upset alert