ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ): আসন্ন নির্বাচনকে কেবল জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, বরং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং গণতন্ত্র রক্ষার চূড়ান্ত সংগ্রাম হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ধোবাউড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “এবারের ভোট মানেই পরিবর্তন, আর এই পরিবর্তনই নিশ্চিত করবে ধোবাউড়াবাসীর প্রকৃত মুক্তি।”
অধিকার রক্ষার লড়াই ও পরিবর্তনের আহ্বান
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে আয়োজিত এই জনসভায় উপচে পড়া জনতার ভিড়ে এমরান সালেহ প্রিন্স অত্যন্ত জোরালো কণ্ঠে তার রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন শুধু প্রিন্সকে বিজয়ী করার জন্য নয়; এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাগরিক অধিকার এবং হারানো গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার লড়াই। দীর্ঘকাল ধরে এই জনপদ অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। এবার ধোবাউড়ার মানুষ আর নীরব থাকবে না; ব্যালটের মাধ্যমে তারা সকল বৈষম্যের জবাব দেবে।”
ধোবাউড়াকে ঘিরে আধুনিক উন্নয়নের রূপরেখা
উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রিন্স ধোবাউড়াবাসীর জন্য একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। তিনি অঙ্গীকার করেন যে, নির্বাচিত হলে ধোবাউড়ায় কল-কারখানা স্থাপন (Industrialization) এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এছাড়া হাওর ও সীমান্ত অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ এই এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্প (Tourism Industry) গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তার এজেন্ডায় রয়েছে। ধোবাউড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—ধোবাউড়া পৌরসভা গঠন করে সকল আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেন তিনি।
গ্রামভিত্তিক অর্থনীতি ও তরুণদের জন্য ‘ভিশন’
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের রূপরেখা তুলে ধরে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এক কোটি কর্মসংস্থান (Job Creation) নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা গ্রামভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে চাই।” তিনি বিশেষভাবে তরুণ সমাজের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যুবশক্তির হাতে কাজ তুলে দিতে না পারলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (Economic Growth) সম্ভব নয়।
নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মনিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী রাবেয়া আলী, এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বক্তারা প্রত্যেকেই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ভোটারদের কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বিশাল এই জনসভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল ধোবাউড়া সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি হাসপাতাল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়, যা নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।