• আন্তর্জাতিক
  • থাইল্যান্ডের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে অনুতিনের দল

থাইল্যান্ডের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে অনুতিনের দল

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
থাইল্যান্ডের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে অনুতিনের দল

থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয়ের পথে রয়েছেন বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের দল ভুমজাইথাই পার্টি।

রবিবারের এই নির্বাচনে দেশটির তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের লড়াইয়ে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে একক আধিপত্য বিস্তার করেছে অনুতিনের দল। এই জয় থাইল্যান্ডে জোট সরকার গঠন সহজ করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা হ্রাসে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের জেরে জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগিয়ে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন রক্ষণশীল নেতা অনুতিন। এর আগে পপুলিস্ট ফেউ থাই পার্টির প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ১০০ দিনেরও কম সময় আগে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে অনুতিনের ভুমজাইথাই পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর চেয়ে অনেক বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রগতিশীল পিপলস পার্টি এবং তৃতীয় স্থানে আছে ফেউ থাই পার্টি।

নির্বাচনি প্রচারণার শেষ সপ্তাহে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল যে, ৫০০ আসনের প্রতিনিধি সভায় ভুমজাইথাই ১৪০ থেকে ১৫০টি আসন পেতে পারে। বিপরীতে পিপলস পার্টি পেতে পারে ১২৫ থেকে ১৩৫টি আসন।

নিজের শক্ত ঘাঁটি বুড়িরাম শহরে ভোট দেওয়ার পর অনুতিন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমতো সবটুকু করেছি। আশা করি জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রাখবে।

পিপলস পার্টির নেতা নাত্তাফং রুয়েংপানিয়াওয়াত পরাজয় মেনে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তার দল ভুমজাইথাইয়ের নেতৃত্বাধীন কোনও সরকারে যোগ দেবে না। তিনি বলেন, যদি ভুমজাইথাই সরকার গঠন করতে পারে, তবে আমাদের বিরোধী দলেই থাকতে হবে।

আমূল সংস্কার ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ডাক দিয়ে প্রচারণার সময় অধিকাংশ জনমত জরিপে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলটি জয়ের দেখা পায়নি।

নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটারদের কাছে ২০১৭ সালের সামরিক সমর্থিত সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়েও মতামত চাওয়া হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, বর্তমান সংবিধান অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়ে রেখেছে। প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার নতুন সংবিধান প্রণয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

১৯৩২ সালে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের অবসানের পর থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত ২০টি সংবিধান প্রণীত হয়েছে, যার বেশিরভাগই হয়েছে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। নতুন সংবিধান তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করতে এখন পার্লামেন্টের অনুমোদনের পাশাপাশি আরও দুটি গণভোটের প্রয়োজন হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাপন জাতুশ্রীপিতাক বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী দলের ওপরই নির্ভর করবে থাইল্যান্ড সামরিক জান্তার তৈরি করা সংবিধান থেকে বেরিয়ে আসবে কি না।

Tags: নির্বাচন থাইল্যান্ড বড় ব্যবধানে এগিয়ে অনুতিনের দল