রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে ভাষণটি প্রচার করা হয়।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির দলের নির্বাচনি অঙ্গীকার, রাষ্ট্রগঠন ও সংস্কার বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইশতেহারের মৌলিক দিক ও বিশেষ কর্মসূচি তুলে ধরেন।
চরমোনাই পীর বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ভূখণ্ডের মানুষের হাজার বছরের চর্চিত বিশ্বাস ও জীবনাচারের নীতি ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তিনি বলেন, শরীয়াহ কেবল একটি আইনের নাম নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, জীবনবোধ, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও আইনের সমন্বিত রূপ। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলাম বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিসমূহ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এসব নীতির মধ্যে রয়েছে ইনসাফভিত্তিক বিচারব্যবস্থা, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার ও সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এসব মৌলিক নীতির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।
ভোট প্রদানের ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে চরমোনাই পীর বলেন, ভালো নীতি ও সৎ ব্যক্তির পক্ষে ভোট দিলে তার সুফলের অংশ ভোটদাতার আমলনামায় যুক্ত হবে। আর খারাপ নীতি ও অসৎ ব্যক্তির পক্ষে ভোট দিলে তার কৃত অপরাধের দায়ও ভাগ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ভোট কেবল ইহকালীন বিষয় নয়, এটি পরকালীন বিষয়ও। তাই ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।
ভাষণে সংক্ষিপ্ত আকারে দলের ইশতেহারের কাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইশতেহার পাঁচটি ভাগে প্রণীত। প্রথম ভাগে রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতির পরিপালন, ক্ষমতার চর্চা ও হস্তান্তরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অনুসরণ, সকল ধর্ম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা, সহযোগিতামূলক বৈদেশিক সম্পর্ক, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, বৈষম্য-বিরোধিতা, দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা।
রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতা, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ, সেবাভিত্তিক দক্ষ ও সৎ জনপ্রশাসন গড়ে তোলা, রাজস্ব পরিধির সম্প্রসারণ এবং স্বনির্ভর, শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভাষণের শেষাংশে চরমোনাই পীর তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের প্রথম ভোট যেন ইসলামের পক্ষে এবং পরিবর্তনের পক্ষে যায়। একই সঙ্গে প্রশাসনে কর্মরতদের সব ধরনের ভয় ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।