লালমনিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনার (Road Accident) মিছিলে যুক্ত হলো আরও একটি নাম। সোমবার (৯ জানুয়ারি) সকালে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে ট্রাকচাপায় পিষ্ট হয়ে আজিজুল ইসলাম (৫০) নামে এক দিনমজুরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে পালিয়ে যাওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মর্মান্তিক সেই মুহূর্ত প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও পরিবারের অন্নসংস্থানের তাগিদে বাইসাইকেলে করে কাজের সন্ধানে বেরিয়েছিলেন আজিজুল। লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের আদিতমারী উপজেলার সাপটিবাড়ি ইউনিয়নের খাতাপাড়া এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় এই ট্র্যাজেডি ঘটে। লালমনিরহাট থেকে বুড়িমারী অভিমুখে দ্রুতবেগে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাক তাকে সজোরে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। দুর্ঘটনার পরপরই চালক ট্রাক নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ও জনরোষ এক নিমিষেই শ্রমজীবী আজিজুলের নিথর দেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় জনতা। তারা ঘাতক ট্রাক ও চালককে আটকের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ (Road Blockade) করে। এই অবরোধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম গ্রিডলক (Gridlock) তৈরি হয়। বিশেষ করে বুড়িমারী স্থলবন্দরের দিকে যাওয়া পণ্যবাহী ট্রাকগুলোর দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পরিচয় ও বর্তমান পরিস্থিতি নিহত আজিজুল ইসলাম আদিতমারী উপজেলার সাপটিবাড়ি ইউনিয়নের খাতাপাড়া এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে। অভাবের সংসারে তিনি ছিলেন প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আদিতমারী থানা পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তারা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ঘাতক ট্রাকটি শনাক্ত করতে সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের সাহায্য নিচ্ছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘাতক ট্রাকটি আটকের আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এবং মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন দ্রুতগতির ট্রাক নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।