টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা আসার কথা ছিল না, কিন্তু ভাগ্যের লিখন আর ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মারপ্যাঁচে মূল পর্বে জায়গা করে নেয় স্কটল্যান্ড। আর বিশ্বমঞ্চে সেই ‘লাইফলাইন’ পাওয়ার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করল স্কটিশরা। কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে নবাগত ইতালিকে পাত্তাই দেয়নি তারা। ৭৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে স্কটল্যান্ড জানান দিল, তারা কেবল বদলি হিসেবে আসেনি, বরং লড়াই করতেই এসেছে।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ও স্কটল্যান্ডের রাজকীয় প্রবেশ নিরাপত্তা উদ্বেগ (Security Concerns) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাংলাদেশ দল ভারত সফরে আসতে অস্বীকৃতি জানালে বাছাইপর্বে বাদ পড়া স্কটল্যান্ডের সামনে বিশ্বকাপের দুয়ার খুলে যায়। আইসিসি’র বিশেষ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হওয়া স্কটল্যান্ড সোমবার মাঠে নেমেই আগ্রাসী মেজাজে ছিল। ইতালির বোলিং আক্রমণকে রীতিমতো দিশেহারা করে ২০ ওভারে ২০৭ রানের পাহাড়সম পুঁজি গড়ে তারা, যা চলতি আসরের সর্বোচ্চ সংগ্রহ (Highest Score)।
মানসি-জোন্স জুটির বিধ্বংসী শুরু টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে স্কটল্যান্ডের দুই ওপেনার জর্জ মানসি ও মাইকেল জোন্স শুরু থেকেই চড়াও হন ইতালিয়ান বোলারদের ওপর। তাদের ১২৬ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ (Opening Partnership) বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। মানসি ৫৪ বলে ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮৪ রানের এক দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন। জোন্স খেলেন ৩৭ রানের কার্যকর ইনিংস। মধ্যভাগে ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেনের ১৮ বলে অপরাজিত ৪১ এবং শেষ দিকে মাইকেল লিস্কের মাত্র ৫ বলে ২২ রানের ‘ক্যামিও’ (Cameo) ইনিংস স্কটল্যান্ডকে ২০০-এর গণ্ডি পার করায়।
ইতালির ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও ব্যাটিং বিপর্যয় রান তাড়া করতে নেমে ইতালি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক বিরল দৃশ্যের জন্ম দেয়। ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন দুই সহোদর জাস্টিন ও অ্যান্থনি মোস্কা। তবে সেই রেকর্ড স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ; ইনিংসের প্রথম বলেই জাস্টিনকে ফিরিয়ে উল্লাসে মাতেন লিস্ক। দ্বিতীয় উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ইতালি।
ইতালির হয়ে বেন মানেন্তি ৩১ বলে ৫২ রানের লড়াকু ফিফটি করেন এবং তার ভাই হ্যারি মানেন্তি করেন ৩৭ রান। দুই ভাইয়ের ৭৩ রানের জুটি আশা দেখালেও শেষ ৪ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ইতালির ব্যাটিং লাইনআপ। ইতালিয়ান অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে চোট পাওয়ায় ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি, যা তাদের বড় হারের অন্যতম কারণ।
মাইকেল লিস্কের অলরাউন্ড শো ব্যাট হাতে ৫ বলে ২২ রানের ঝড় তোলার পর বল হাতেও জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন মাইকেল লিস্ক। ৪ ওভার বল করে মাত্র ১৭ রান দিয়ে তিনি শিকার করেন ৪টি মূল্যবান উইকেট। তার এই ক্লিনিক্যাল পারফরম্যান্স (Clinical Performance) ইতালির মিডল অর্ডারকে ধসিয়ে দেয়। এছাড়া ওয়াট নেন ২টি উইকেট।
কলকাতার দর্শকরা ইডেন গার্ডেন্সে স্কটল্যান্ডের এই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ। বাংলাদেশের না থাকা হয়তো টুর্নামেন্টের সমীকরণে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে, তবে স্কটল্যান্ডের এমন রাজকীয় শুরু বিশ্বকাপের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ (Brand Value) এবং লড়াইয়ের আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল। ১৬.৪ ওভারে মাত্র ১৩৪ রানে অলআউট হওয়া ইতালিকে এখন পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।