• রাজনীতি
  • ঢাকা-১৭: প্রচারণায় জামায়াত, জনপ্রিয়তায় বিএনপি এগিয়ে

ঢাকা-১৭: প্রচারণায় জামায়াত, জনপ্রিয়তায় বিএনপি এগিয়ে

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ঢাকা-১৭: প্রচারণায় জামায়াত, জনপ্রিয়তায় বিএনপি এগিয়ে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৭ আসন। এ আসনের আওতায় গুলশান, বনানী নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর এবং ঢাকা সেনানিবাসের একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসনটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

ঢাকা-১৭ আসনের ১১ জন প্রার্থী লড়াই করলেও ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে লড়াইটি সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন এই আসনের ভোটাররা।

নির্বাচনের সমীকরণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সাম্প্রতিক একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে তিনি কিছুটা ইমেজ সংকটে পড়েছেন। যদিও ‘ডোর টু ডোর’ প্রচারণার দিক থেকে জামায়াতের প্রার্থী এগিয়ে। কিন্তু জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসনে প্রার্থী হওয়ায় এখানকার সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সকাল থেকে রাত অবধি একাধিকবার ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি কড়াইল বস্তির মর্জিনা বেগম। তিনি বলেন, আমাদের আসনের খালেদা জিয়ার সন্তান ভোটে দাঁড়িয়েছেন, আমরা তাকে ভোট দেব। তিনি আমাদের এখানে এসেছিলেন, আমাদের বস্তিবাসীর উন্নয়নের কথা বলেছেন।

তার দল ভোটে জিতলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। আমাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে পারবেন। শুধু তাই নয় তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা, তার কথা কড়াইলবাসীকে মুগ্ধ করেছে বলেও উল্লেখ করেন মর্জিনা বেগম।

আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তারেক রহমানকেই ভোট দেবেন ভাসানটেক থানা এলাকার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা, এমনটা জানান ভাসানটেক থানার সাধারণ সম্পাদক ও ভাসানটেক পূর্ণবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন দুলাল। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী আতিক আহমেদ থাকলেও আমরা এলাকায় উন্নয়নের কথা ভেবে এবং যারা আমাদের বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস করেছে তাদের বিরুদ্ধে ভোট দেব।

জাতীয় পার্টির ভাসানটেক থানার সভাপতি আবুল বাশার ভূঁইয়া ও আমি নীতিগতভাবে ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের নির্বাচন করছি। একজন প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার আগেই দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যেরকম ব্যবহার করেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী ব্যবহার করবেন, সেটা ভোটাররা বুঝতে পারছেন। তাই আমরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছি। তারেক রহমান এখানে এসেছিলেন, আমাদের এলাকার সমস্যার কথা শুনেছেন। আশা করছি তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে আমাদের এলাকার পুনর্বাসন সমস্যা সমাধান করব। বিএনপি বরাবরই এখান থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে, এবারো এর ব্যতিক্রম হবে না বলে জানালেন ১৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং ৯৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মো. মিন্টু। তিনি বলেন, আমরা কাজ করছি, আমাদের দলীয় প্রধান ইতোমধ্যে আমাদের এলাকার সমস্যাগুলো শুনেছেন। তিনি বিজয়ী হলে আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রী পাব। এই আসনের সব ভোটারই তার ব্যক্তি ইমেজ দেখেছেন। আশা করছি আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।

কচুক্ষেত বাজারে পেঁয়াজ-মরিচ ব্যবসায়ী ইফতেখার ভোট দেবেন বনানী বিদ্যানিকেতনে, তার পছন্দের মার্কা দাঁড়িপাল্লা। তিনি বলেন, দুটি বড় দল নির্বাচন করছে। তবে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। আমি অন্যান্যবার অন্য মার্কায় ভোট দিলেও এবার দাঁড়িপাল্লায় দেব। দলটি বিগত সময়ে নানাভাবে আমার খোঁজ খবর নিয়েছে। ব্যক্তি নয়, দল দেখে এবার ভোট দেব।

ভোটারদের মনোভাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই আসনে জনপ্রিয়তার দৌড়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা তারেক রহমান তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছেন। বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খালিদুজ্জামান পড়েছেন ইমেজ সংকটে, যা তার নির্বাচনী সম্ভাবনাকে দুর্বল করে তুলছে অতীত কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ায়, যা তার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

এখানকার ভোটাররা বলছেন, নির্বাচনে শুধু দলীয় পরিচয় যথেষ্ট নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ বড় ফ্যাক্টর। খালিদুজ্জামানের ক্ষেত্রে সেই জায়গাটাতেই বড় ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ঢাকা–১৭ আসনে মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এই শ্রেণির ভোটাররা প্রার্থীর সরাসরি যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দেন। আর এই ক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থী সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। তবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভোটের মাঠে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা।

এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর গুলশান পশ্চিম থানার অফিস সম্পাদক ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আব্দুল্লাহ মামুন বাংলানিউজকে বলেন, অনলাইনে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ভোটাররা গুরুত্ব দেয় না। এখানকার ভোটাররা আমাদের সঙ্গে আছেন। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই খালিদুজ্জামান প্রত্যেকটা অঞ্চলে পদচারণা করছেন, প্রত্যেকটা মানুষের দ্বারে দ্বারে গেছেন। এখানকার মানুষ তাকে বিজয়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ এখনো পর্যন্ত আমরা দাওয়াতি কাজ করে যাচ্ছি। আগে যে বাসায় আমরা কখনো ঢুকতে পারতাম না, এখন সে বাসার মানুষগুলো আমাদের দেখে ডেকে নিচ্ছেন। সব মিলে আমারা সাড়া পাচ্ছি। অনেক মানুষ বলছেন যে, ভাই আমরা হয়তো প্রকাশ্যে আপনাদের সাথে যেতে পারছি না, কিন্তু ভোট আপনাদের দেব ইনশাআল্লাহ। এই আসনে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান ভোট করছেন, তিনি যদি পরাজিত হন সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথা চিন্তা করে অনেকে ভয় পাচ্ছেন। তবে এখানে আমরা জিতব এবং ভোটের ব্যবধানটাও ভালো থাকবে ইনশাল্লাহ।

এই আসনটি রাজধানীর একটি অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, এখানকার ভোটাররা সাধারণত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ভোট দেন বলে মনে করছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নগর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য কামাল আহমেদ আসাদ।

তিনি বলেন, তারেক রহমান বর্তমানে রাজনীতিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি। আর মানুষের প্রত্যাশা ওনার কাছে বেশি। তাই ঢাকা-১৭ আসনের জনগণ তাকে বেছে নিয়েছেন। ভয়-ভীতি নয়, আমরা মানুষের মন জয় করে ভোটে জয়লাভ করব। আমরা কারো সমালোচনায় বিচলিত নই। আমরা সবার মতামতকে গ্রহণ করি, কেউ যদি খারাপ বলে থাকে, এটা তাদের বিষয়। কিন্তু আমাদের নেতা সবাইকে সাথে নিয়ে মিলেমিশে দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। তার মূল উদ্দেশ্য মানুষের জন্য কাজ করা।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ধানের শীষের পক্ষে যে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে, তাতে প্রতিপক্ষের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সে কারণেই তারা অবান্তর বক্তব্য দিতে শুরু করেছে। এতে প্রমাণ হয়, আগামী দিনে বিএনপিই জয়লাভ করবে। বিএনপি একটি সুষ্ঠু ও ভালো নির্বাচন চায়। কিন্তু প্রতিপক্ষ নির্বাচনের মাঠে নেমে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যেভাবে বক্তব্য দিয়েছে, তা কোনো শৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে না।

ঢাকা–১৭ আসনে জরিপে তারেক রহমান এগিয়ে

সম্প্রতি ঢাকা–১৭ আসন নিয়ে জরিপ করেছে একটি সংস্থা। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আর ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ বলেছেন জামায়াতের প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান জয়লাভ করবেন। কে নির্বাচিত হতে পারেন, তা জানেন না বলে উল্লেখ করেছেন ২১ দশমিক ৬ শতাংশ। এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে সব মিলিয়ে বলা যায়, ঢাকা–১৭ আসনে লড়াইয়ে জনপ্রিয়তা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় তারেক রহমান এগিয়ে, আর ইমেজ সংকটে খালিদুজ্জামান চাপের মুখে থাকলেও নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, এই ব্যবধান বাড়বে নাকি কমবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Tags: ঢাকা-১৭: প্রচারণায় জামায়াত জনপ্রিয়তায় বিএনপি এগিয়ে