টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গত আসরে দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছিল তাদের। বাছাইপর্বের বাধা পেরোতে না পারার সেই ক্ষত এখনো টাটকা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়ে বুঝিয়ে দিল, তারা হারিয়ে যেতে আসেনি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ওমানকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে উড্ডয়ন করল সিকান্দার রাজার দল। ৮ উইকেটের বিশাল জয়ে বিশ্বকাপের প্রত্যাবর্তন ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখল আফ্রিকান এই শক্তি।
পেসারদের তোপে ওমানের ব্যাটিং বিপর্যয়
টসে জিতে বোলিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তার সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তিন পেসার—ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা এবং ব্র্যাড ইভান্স। এই ত্রয়ীর ‘Pace Attack’-এ দিশেহারা হয়ে পড়ে ওমানের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ২৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ওমান যখন ধুঁকছিল, তখন মনে হচ্ছিল স্কোরবোর্ড ৫০ পার হবে কি না।
ওমানের টপ-অর্ডারের কোনো ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। দলের হয়ে ষষ্ঠ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন সুফিয়ান মাহমুদ ও বিনায়ক শুক্লা। তাদের ৪২ রানের জুটির ওপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে ১০৩ রানে থামে ওমান। জিম্বাবুয়ের হয়ে মুজারাবানি, এনগারাভা ও ইভান্স প্রত্যেকেই তিনটি করে উইকেট শিকার করে ওমানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
বেনেটের ঝড় এবং টেইলরের অভিজ্ঞতা
১০৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের শুরুটা ছিল বিধ্বংসী। ওপেনার তাদিওয়ানাসে মারুমানি ১১ বলে ২১ রান করে ‘Aggressive’ ব্যাটিংয়ের ইঙ্গিত দিলেও দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন। একই ওভারে ডিওন মায়ার্সকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে সেই চাপকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন তরুণ ব্রায়ান বেনেট এবং অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেইলর।
বেনেট ৭টি নান্দনিক চারের সাহায্যে ৩৬ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রেন্ডন টেইলর ৩১ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তবে জয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে ‘Retired Hurt’ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে, যা কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে দলের জন্য। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক সিকান্দার রাজা উইকেটে এসে ৩৯ বল হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করেন।
সিকান্দার রাজার নতুন মাইলফলক
এই ম্যাচটি জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটের পোস্টার বয় সিকান্দার রাজার জন্য ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। শন উইলিয়ামসকে টপকে জিম্বাবুয়ের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার অনন্য ‘Milestone’ স্পর্শ করেন তিনি। জিম্বাবুয়ে দল হিসেবে যে এই টুর্নামেন্টে একটি ‘Dark Horse’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে, প্রথম ম্যাচেই ওমানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে তারা সেই সংকেত পাঠিয়ে দিল।
পুরো ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের কোনো ছক্কা মারতে না হলেও ওমানের বোলারদের ওপর তারা যে দাপট দেখিয়েছেন, তা তাদের প্রস্তুতিরই প্রমাণ। ৩ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়া ওমানের সুফিয়ান মাহমুদই কেবল জিম্বাবুইয়ান শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করতে পেরেছিলেন। গ্রুপ ‘বি’-তে এই জয়ের পর জিম্বাবুয়ের পরবর্তী লক্ষ্য এখন বড় দলগুলোর বিপক্ষে চমক দেখানো।