তিনি ঘোষণা করেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রথম দিন ফজর নামাজ পড়েই তার দল দেশের কল্যাণে গৃহীত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচারিত বক্তব্যে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
৫ বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ৫ বিষয়ে ‘না’
একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমীরে জামায়াত দেশবাসীকে ৫টি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ৫টি বিষয়ে ‘না’ বলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে আমরা ‘হ্যাঁ’ বলছি। অন্যদিকে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে আমরা স্পষ্ট করে ‘না’ বলছি।” তিনি আরও যোগ করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার মাধ্যমেই দেশে অপশাসনের পথ চিরতরে বন্ধ হবে।
বিশেষ অগ্রাধিকার ও সংস্কার
ডা. শফিকুর রহমান তার ভাষণে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর বিশেষ জোর দেন। সেগুলো হলো—
শিক্ষা: নৈতিকতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি জীবনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে।
বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগকে আমূল সংস্কার করে সৎ ও মেধাবীদের নিয়োগের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
অর্থনীতি: ব্যাংকিং সেক্টর সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
নারী অধিকার ও ধর্মীয় সম্প্রীতি
নারীদের মর্যাদা ও অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরে নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন। করপোরেট জগত থেকে রাজনীতি, সবখানে মেধার মূল্যায়ন হবে।” পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে তিনি বলেন, “এই বাংলাদেশ সবার, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান। কেউ ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করবে না। ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান
রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে আমীরে জামায়াত বলেন, “রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এখন সময়ের দাবি। সংস্কার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। এই গণভোটে আমরা ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানাই।
প্রবাসীদের জন্য সংসদীয় আসন
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ আরও সহজ করা হবে। এ ছাড়া সংসদে আনুপাতিক হারে প্রবাসী প্রতিনিধি নির্বাচন বা মনোনয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে তারা সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারেন।”
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভোট প্রার্থনা
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তরুণদের হাত ধরেই ‘বাংলাদেশ ২.০’ বা একটি নতুন দেশ গঠিত হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের তাদের নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি দায়িত্বকে একটি আমানত উল্লেখ করে হযরত ওমরের (রা.) ন্যায়নিষ্ঠ শাসনের আদর্শ অনুসরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।