আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে প্রচারণায় সরগরম বরিশাল-৫ (সদর) আসন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের অর্থনৈতিক হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত বিসিক (BSCIC) শিল্প এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর ও হাতপাখা মার্কার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। প্রচারণাকালে তিনি বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘চাঁদাবাজি’ ও ‘দুর্নীতি’ নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
শিল্পখাতে চাঁদাবাজির থাবা ও সংকটের চিত্র
বিসিক শিল্প এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, “বর্তমানে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্যে আমাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন, আর যারা সচল আছেন তারা লভ্যাংশের বড় একটি অংশ হারিয়ে ফেলছেন অসাধু চক্রের পকেটে। এই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘হাতপাখা’ প্রতীক কেবল একটি রাজনৈতিক চিহ্ন নয়, বরং এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক পরিবর্তনের অঙ্গীকার।
অবকাঠামো উন্নয়ন ও ‘Job Creation’-এর প্রতিশ্রুতি
বরিশালের বিসিক এলাকাকে এ অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম ‘Driving Force’ হিসেবে বর্ণনা করে ফয়জুল করীম বলেন, “বিসিক শিল্প এলাকা দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার শিকার। এখানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি এই শিল্পাঞ্চলের জন্য একটি আধুনিক ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলবেন। বিশেষ করে ‘Job Creation’ বা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্প খাতের আধুনিকায়ন এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে তার অন্যতম অগ্রাধিকার।
কীর্তনখোলার ভাঙন ও টেকসই সমাধানের পরিকল্পনা
বরিশালবাসীর চিরচেনা অভিশাপ ‘নদীভাঙন’ নিয়ে ফয়জুল করীম তার নির্বাচনী ভাবনার কথা জানান। তিনি বলেন, “বরিশাল নদীবেষ্টিত হওয়ায় কীর্তনখোলার ভাঙন আমাদের বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। আমি সংসদে গিয়ে কেবল স্লোগান দেব না, বরং কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন রোধে একটি ‘Sustainable Dam’ বা টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য কারিগরি ও অর্থনৈতিক বরাদ্দ নিশ্চিতে জোরালো ভূমিকা রাখব।” তিনি মনে করেন, স্থায়ী ভৌগোলিক নিরাপত্তা ছাড়া কোনো উন্নয়নই স্থায়ী হতে পারে না।
শ্রমিক-মালিক সৌহার্দ্য ও আইনি নিরাপত্তা
জনসংযোগ চলাকালীন তিনি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাউকে ব্যবসা বা পেশা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই প্রার্থী স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা আপনাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে এমন একজনকে নির্বাচিত করুন যিনি আপনার অধিকার রক্ষায় আপসহীন থাকবেন।”
এদিন বিসিক এলাকার সাধারণ শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করার সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভোটারদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের এই শীর্ষ নেতার উপস্থিতি নির্বাচনের মাঠের সমীকরণকে আরও চাঙা করে তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।