নির্বাচনী ব্যয়ের বিশাল পরিসংখ্যান চলতি নির্বাচনে প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যমতে, ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার এই বাজেটের সিংহভাগ অর্থাৎ ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকাই ব্যয় হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে। নির্বাচনে প্রায় ৪৩ হাজার কেন্দ্রে ৮ লাখের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও এবার প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করায় সেখানেও একটি নির্দিষ্ট খরচ ধরা হয়েছে।
গণভোট ও অতিরিক্ত খরচ এবারের নির্বাচনে একটি বড় আকর্ষণ ও খরচের কারণ হলো গণভোট। শুধু এই গণভোট আয়োজনেই ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একই সঙ্গে সমন্বয় করলে এই ব্যয় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ জানান, সৃজনশীল চিন্তার মাধ্যমে নাগরিকদের করের এই বিপুল অর্থ সাশ্রয় করার সুযোগ ছিল।
প্রযুক্তি ও পর্যবেক্ষণ নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বডি ওর্ন ক্যামেরা বা বডিক্যাম কেনার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরুতে ৪০ হাজার ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭০০টি ক্যামেরা কেনা হয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৮ হাজার কেন্দ্রে নজরদারি করা সম্ভব হবে। এছাড়া ৮১টি দেশি সংস্থার প্রায় ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক এবং ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
মাথাপিছু ব্যয় ও বিগত বছরের তুলনা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে নির্বাচনী ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪৩ গুণ। এবারের নির্বাচনে ভোটার প্রতি মাথাপিছু ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬৪ টাকা। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়া ১৫ লাখ প্রবাসীর প্রত্যেকের পেছনে খরচ ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা করে।
ইসির বক্তব্য ও জনবল নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, নির্বাচনের ব্যাপ্তি এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে এই খরচ অস্বাভাবিক নয়। এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এবং ২৯৭টি আসনে ১ হাজার ৯৯৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটগ্রহণের জন্য মাঠে থাকবেন সাড়ে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রায় ৮ লাখ নির্বাচন কর্মকর্তা।