বাংলা চলচ্চিত্রের রূপালি পর্দায় দীর্ঘকাল দাপটের সঙ্গে খল-অভিনেত্রীর ভূমিকা পালন করেছেন রিনা খান। তবে এবার তিনি সংবাদ শিরোনামে এসেছেন কোনো চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য নিয়ে নয়, বরং নিজের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সংসদীয় ক্যারিয়ারের লক্ষ্য নিয়ে। সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি আগামীতে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য (MP) হওয়ার জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
বঞ্চনার ১৭ বছর ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে রিনা খান সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রাজনৈতিক প্রতিকূলতার বর্ণনা দেন। রিনা খানের দাবি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (BNP) আদর্শের অনুসারী হওয়ায় বিগত ১৭ বছর তাকে এবং তার সমমনা শিল্পীদের নানামুখী চাপে থাকতে হয়েছে। অনেক শিল্পী দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং যারা দেশে ছিলেন, তারা চরম বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বাংলাদেশ টেলিভিশনের (BTV) একজন নিবন্ধিত বা Registered Artist হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমাকে দীর্ঘ সময় কাজ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। আমাদের মতো শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।"
সংরক্ষিত আসনে জনপ্রতিনিধিত্বের আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিন পর্দার অন্তরালে থাকা এই অভিনেত্রী এখন সক্রিয়ভাবে রাজনীতির মাঠে কাজ করছেন। দলটির প্রতি তার আনুগত্য ও ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। রিনা খান মনে করেন, দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা এবং শিল্পীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার পুরস্কার হিসেবে তাকে সংসদে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়ন এবং অধিকারবঞ্চিত শিল্পীদের জন্য কাজ করতে চান।
জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্বে রিনা খান কেবল একজন অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, রিনা খান বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত। বর্তমানে তিনি জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের ভেতরে তার সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড তাকে এই পদের দাবিদার হিসেবে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
তারেক রহমানের নির্দেশনায় ভোটের মাঠে সক্রিয়তা নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে রিনা খানকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষের প্রচারে সরব থাকতে দেখা গেছে। শোবিজ জগতের অনেক তারকা এই সময়ে দৃশ্যপটের আড়ালে থাকলেও, রিনা খান মাঠ পর্যায়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের প্রতি এই নিবেদনই তাকে সংরক্ষিত আসনের দৌড়ে এগিয়ে রাখতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, রূপালি পর্দার এই সফল অভিনেত্রী রাজনীতির ‘পলিটিক্যাল ক্যারিয়ারে’ কতটা সফল হতে পারেন এবং আগামী দিনে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে বসার সুযোগ পান কি না।