• আন্তর্জাতিক
  • ভালো চাকরির লোভে কেনিয়া থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে: তরুণদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

ভালো চাকরির লোভে কেনিয়া থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে: তরুণদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

রাশিয়ায় ভালো চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে কেনিয়ার তরুণদের ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ; প্রাণে বেঁচে ফেরা তরুণদের বর্ণনায় উঠে এল নির্মম সত্য।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ভালো চাকরির লোভে কেনিয়া থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে: তরুণদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কেনিয়ার তরুণদের রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এই যুদ্ধ থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরা চার তরুণ বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। তাদের দাবি, নিরাপত্তারক্ষী বা ক্রীড়া পেশার আড়ালে তাদের মূলত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল পাচারকারী চক্র।

ভালো চাকরি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর হয়ে কেনিয়া ছেড়েছিলেন একদল তরুণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন যে শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে পরিণত হবে, তা তাদের কল্পনাতীত ছিল। সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেঁচে ফেরা চার কেনিয়ান তরুণ প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সেই নৃশংস বাস্তবতার কথা।

চাকরির প্রলোভন ও প্রতারণা বেঁচে ফেরা তরুণরা জানান, নাইরোবিভিত্তিক একটি নিয়োগ সংস্থা তাদের রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির স্বপ্ন দেখিয়েছিল। তাদের বলা হয়েছিল, রাশিয়ায় গিয়ে তারা বিক্রয়কর্মী, নিরাপত্তারক্ষী বা বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থায় কাজ করার সুযোগ পাবেন। এজন্য তাদের মাসে ১ থেকে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পা রাখার পরেই দৃশ্যপট বদলে যায়।

জোরপূর্বক সামরিক চুক্তিতে সই রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ওই তরুণদের একটি সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোরপূর্বক রুশ সেনাবাহিনীর চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা হয়। যারা সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশে ফেরার উপায় জানতে চাইলে তাদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়, যা তাদের পক্ষে পরিশোধ করা অসম্ভব ছিল। ফলে জীবন বাঁচাতে এবং বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে তারা অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে বাধ্য হন।

রণক্ষেত্রের ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতি যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তারা জানান, সেখানে তারা কেবল একা নন, আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকদেরও যুদ্ধ করতে দেখেছেন। ভয়াবহ যুদ্ধের ডামাডোলে তাদের অনেক সহযোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই চার তরুণ কোনোমতে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও মানসিকভাবে তারা বিধ্বস্ত। অনেকেই জানিয়েছেন, যে বেতনের লোভ দেখানো হয়েছিল তার সিকিভাগও তারা পাননি।

সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা কেনিয়া সরকার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ কেনিয়ানকে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২৩ জনকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ‘গ্লোবাল ফেস হিউম্যান রিসোর্সেস’ নামের একটি নিয়োগ সংস্থার এক কর্মীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মানব পাচারের মামলা করা হয়েছে। নিখোঁজ ও নিহতদের পরিবারগুলো বর্তমানে বিচার ও স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে।

Tags: russia ukraine war human trafficking global news africa kenya-youths forced-military-service