• আন্তর্জাতিক
  • ইসরাইলের পশ্চিম তীর দখলের বিরোধিতায় ট্রাম্প: হোয়াইট হাউসের কড়া অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ

ইসরাইলের পশ্চিম তীর দখলের বিরোধিতায় ট্রাম্প: হোয়াইট হাউসের কড়া অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইসরাইলের পশ্চিম তীর দখলের বিরোধিতায় ট্রাম্প: হোয়াইট হাউসের কড়া অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ

তেল আবিবের ‘সম্প্রসারণবাদী নীতি’র বিরুদ্ধে এবার সরব ওয়াশিংটন; আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে বসতি স্থাপনের চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাল বিশ্ব সম্প্রদায়।

মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে এক নাটকীয় মোড় নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরাইলের অধিকৃত পশ্চিম তীরের (West Bank) অন্তর্ভুক্তির বা সরাসরি দখলের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স ও আল জাজিরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটনের এই অবস্থান ইসরাইলের বর্তমান কট্টরপন্থী সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থিতিশীলতার স্বার্থে ওয়াশিংটনের কড়া বার্তা হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “একটি স্থিতিশীল পশ্চিম তীর ইসরাইলকে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের যে কোনো চেষ্টা এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের যে মূল লক্ষ্য, তার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।” ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, তারা এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি করতে আগ্রহী নয়।

ইসরাইলের আগ্রাসী পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এর আগে গত রবিবার ইসরাইলের অতি-ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ বা Sovereignty সম্প্রসারণের জন্য নতুন কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন (International Law) লঙ্ঘন করে ইসরাইলিদের জন্য নতুন বসতি (Settlement) স্থাপনের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে।

বিশেষ করে, পশ্চিম তীরের বৃহত্তম শহর হেবরনে (Hebron) নির্মাণ অনুমতির কর্তৃত্ব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (PA) থেকে সরিয়ে সরাসরি ইসরাইলি প্রশাসনের হাতে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্তটি বৈশ্বিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ও ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ সংকট ইসরাইলের এই ‘সম্প্রসারণবাদী নীতি’র বিরুদ্ধে সোমবার আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ একযোগে বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, এই অবৈধ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক্ষেপকে ‘অস্থিতিশীল’ এবং ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ (Two-State Solution)-এর সম্ভাবনার জন্য চরম ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে জানান, এই ধরণের কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।

যুক্তরাজ্য ও স্পেনের কড়া হুঁশিয়ারি ইউরোপীয় শক্তিগুলোর মধ্যে স্পেন ও যুক্তরাজ্য সরাসরি ইসরাইলকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরাইলের এই একতরফা সিদ্ধান্ত গাজায় চলমান সহিংসতার আগুনকে আরও উসকে দিতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য সরকার ইসরাইলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং অবিলম্বে এই নির্দেশ প্রত্যাহার করা উচিত।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের কৌশল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সাধারণত ইসরাইল-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমান Geopolitics এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার খাতিরে তিনি সরাসরি ভূখণ্ড দখলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে মার্কিন সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করার একটি কৌশলগত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত (Administrative Decision) হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মহলের এই সমন্বিত চাপ এবং খোদ মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার পর নেতানিয়াহু সরকার তাদের এই বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে পিছু হটে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Tags: middle east israel palestine international law donald trump white house west bank global politics settlement expansion two-state solution global politics donald trump