স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি এফসি বার্সেলোনায় (FC Barcelona) শুরু হয়েছে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল। ক্লাবের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন হুয়ান লাপোর্তা। তবে এই পদত্যাগ কোনো অভ্যন্তরীণ সংকট বা মাঠের ব্যর্থতার কারণে নয়, বরং ক্লাবের গঠনতান্ত্রিক নিয়ম মেনে পুনরায় নির্বাচনে লড়ার একটি সুকৌশলী পদক্ষেপ বা ‘Strategic Move’।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই কি এই পদত্যাগ? বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী এবং কঠোর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো বর্তমান সভাপতি যদি পুনরায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তবে তাকে নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট সময় আগে পদ ছাড়তে হয়। লাপোর্তা সেই নিয়ম মেনেই তার সিংহাসন খালি করেছেন। ২০২১ সালের মার্চ মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বার্সেলোনার আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং দল গোছানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। আগামী ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতেই লাপোর্তার এই সরে দাঁড়ানো।
চ্যালেঞ্জের মুখে লাপোর্তা: সামনে যারা আছেন আসন্ন এই নির্বাচনে লাপোর্তাকে এক কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। তার দীর্ঘদিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিক্তর ফন্ত (Victor Font) ছাড়াও এবারের নির্বাচনী ময়দানে থাকছেন জাভি ভিয়াহোয়ানা এবং মার্ক সিরিয়ার মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা। বিশ্লেষকদের মতে, ক্লাবের 'Financial Stability' এবং ন্যু ক্যাম্পের সংস্কার কাজের অগ্রগতি এবারের নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে।
বোর্ড অব ডিরেক্টর্সে ব্যাপক রদবদল লাপোর্তার পদত্যাগের পরপরই ক্লাবের 'Executive Committee' থেকে আরও আটজন প্রভাবশালী সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এই সদস্যরা মূলত ক্লাবের প্রশাসনিক, সামাজিক ও বাণিজ্যিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। লাপোর্তার নির্বাচনী প্রচারণায় (Election Campaign) সরাসরি অংশ নিতেই তাদের এই প্রস্থান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বে রাফা ইউস্তে নির্বাচনকালীন এই সময়ে ক্লাবের প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে বার্সেলোনা তাদের ‘কন্টিনুইটি প্ল্যান’ কার্যকর করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি (Interim President) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাফা ইউস্তেকে। বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্ত, অর্থাৎ ৩০ জুন পর্যন্ত তিনি ক্লাবের নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করবেন।
অচল হবে না ক্লাবের দৈনন্দিন কার্যক্রম সভাপতি পদত্যাগ করলেও কাতালান ক্লাবটি সমর্থকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, ক্লাবের নিয়মিত বোর্ড মিটিং এবং নির্ধারিত এজেন্ডাগুলোতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেও ট্রান্সফার মার্কেট (Transfer Market) কৌশল বা স্টেডিয়াম উন্নয়নের কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, ১৫ মার্চের ব্যালট যুদ্ধে বার্সার সদস্যরা কি আবারও পুরনো সেনাপতি লাপোর্তার ওপরই আস্থা রাখেন, নাকি কাতালান ক্লাবটি পায় নতুন কোনো কাণ্ডারি।