সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে এসব কেন্দ্রে আগুন দেওয়া হয়।
আগুনে তিনটি বিদ্যালয়ের কক্ষের ভেতরে থাকা ছয়টি বেঞ্চ এবং দেয়ালের আংশিক অংশ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া দুটি বিদ্যালয়ের বারান্দায় রাখা পরিত্যক্ত দুটি বেঞ্চও পুড়ে যায়। তবে বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নেত্রকোনা জেলা পুলিশের মিডিয়া শাখার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি সীমিত। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিসংযোগের শিকার কেন্দ্রগুলো হলো- সদর উপজেলার পারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনমোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূরপুর শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লাইট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া পূর্বধলা উপজেলার হিরনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্বৃত্তরা কয়েকটি বিদ্যালয়ের পুরোনো জানালা খুলে চটের বস্তায় কেরোসিন ঢেলে ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূরপুর শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হিরনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয়টি বেঞ্চ পুড়ে যায় এবং দেয়ালের আংশিক ক্ষতি হয়। অন্যদিকে লাইট ও বামনমোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় রাখা পরিত্যক্ত বেঞ্চেও একই পদ্ধতিতে আগুন দেওয়া হয়। গ্রামবাসীরা আগুনের বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
মঙ্গলবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার এবং স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সদর উপজেলার ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক বলেন, সদর উপজেলার চারটি কেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়েছে। দুটি বিদ্যালয়ের ভেতরে আগুন দেওয়ায় পাঁচটি বেঞ্চ পুড়েছে। অন্য দুটি বিদ্যালয়ের বারান্দায় রাখা পরিত্যক্ত দুটি বেঞ্চ পুড়ে গেছে। কেন্দ্রগুলোতে গ্রাম পুলিশ মোতায়েনসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, কিছু বেঞ্চ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভোট গ্রহণে কোনও সমস্যা হবে না। কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নেত্রকোনা-২ (সদর–বারহাট্টা) আসনে পাঁচ জন এবং নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে তিন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।