মাঠের লড়াইয়ে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের সেনাপতি—একজন আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা, অন্যজন ব্রাজিলের পোস্টার বয়। কিন্তু সবুজ গালিচার বাইরে লিওনেল মেসি এবং নেইমার জুনিয়রের বন্ধুত্ব ফুটবল বিশ্বের এক চিরন্তন সৌন্দর্যের নাম। সেই বন্ধুত্বের এক আবেগঘন বহিঃপ্রকাশ ঘটল আবারও। বন্ধু মেসি এবং তার দুই সন্তান থিয়াগো ও সিরোর জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ক্লাব সান্তোসের '১০ নম্বর' জার্সি পাঠিয়েছেন নেইমার।
পেলের উত্তরাধিকার থেকে ‘ফুটবল জাদুকর’: নেইমারের বিশেষ বার্তা
ফুটবল সম্রাট পেলের স্মৃতিধন্য সান্তোস ক্লাবের জার্সি মানেই এক বিশাল সম্মান। নেইমার তার শৈশবের ক্লাবের সেই পবিত্র স্মারক উপহার হিসেবে বেছে নিয়েছেন মেসির জন্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মুহূর্তটি শেয়ার করে সান্তোস এফসি একটি কাব্যিক বার্তা প্রদান করেছে। সেখানে বলা হয়, "নেইমার জুনিয়র থেকে লিওনেল মেসি, রাজপুত্র থেকে জাদুকরের হাতে। এই পবিত্র বর্মটির (জার্সি) গুরুত্ব অপরিসীম। ১০ নম্বরটি রাজার (পেলে) ছোঁয়ায় অমর হয়ে আছে। এখন এটি নেইমার, মেসি এবং পেলের ১০ নম্বর। ফুটবল ইতিহাসে এটি এক অসীম লিগ্যাসি (Legacy)। ভিলা বেলমিরো থেকে তোমাকে স্বাগতম, লিওনেল মেসি।"
বার্সেলোনা থেকে পিএসজি: এক অটুট বন্ধুত্বের মহাকাব্য
মেসি ও নেইমারের এই রসায়ন আজকের নয়। ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সিতে তারা গড়ে তুলেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী আক্রমণভাগ 'MSN' (মেসি, সুয়ারেজ ও নেইমার)। সেই মৌসুমে ট্রেবল জিতে বার্সেলোনা ফুটবল বিশ্বকে শাসন করেছিল। ২০১৭ সালে নেইমার পিএসজিতে পাড়ি জমালেও তাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগে কখনো ভাটা পড়েনি। পরবর্তীতে ২০২১ সালে মেসি যখন পিএসজিতে যোগ দেন, তখন তাদের সেই বন্ধুত্ব নতুন মাত্রা পায়। ২০২৩ সালে দুজনেই ইউরোপীয় ফুটবল ছেড়ে ভিন্ন গন্তব্যে পাড়ি দিলেও তাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা যে অটুট, এই জার্সি উপহার তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ।
বিশ্বকাপের হাতছানি ও নেইমারের ফিটনেস চ্যালেঞ্জ
ফুটবল বিশ্বের নজর এখন আগামী বিশ্বকাপের দিকে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা যখন দারুণ ছন্দে রয়েছে, ঠিক উল্টো চিত্র ব্রাজিল শিবিরে। সেলেসাওদের পারফরম্যান্স বর্তমানে কিছুটা নড়বড়ে। তবে নেইমারের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ইনজুরি (Injury)। ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, শতভাগ ফিটনেস না থাকলে কোনো ফুটবলারকেই দলে জায়গা দেওয়া হবে না, তা তিনি নেইমার হলেও।
এখন দেখার বিষয়, নেইমার তার চোট কাটিয়ে পূর্ণ ফিটনেস (Fitness) ফিরে পেয়ে বিশ্বকাপের মহারণে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন কিনা। তবে মাঠের লড়াই যাই হোক, মেসি-নেইমারের এই বন্ধুত্ব ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ফুটবল শুধু জেতা-হারার খেলা নয়, এটি সম্পর্কের এক পরম মেলবন্ধনও।