থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সোংখলা প্রদেশে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ বন্দুক হামলার (Gun Violence) ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হাট ইয়াই জেলার একটি স্কুলে এক বন্দুকধারী অতর্কিত প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় ঘাতক যুবক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জিম্মি (Hostage Crisis) করার চেষ্টা করলে স্কুল চত্বরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হলেও গুলিতে এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।
সাতসকালের বিভীষিকা ও জিম্মি নাটক
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ভোরে সোংখলা প্রদেশের হাট ইয়াই জেলার ‘পাতংপ্রাথানকিরিওয়াত’ স্কুলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ১৮ বছর বয়সী এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেই গুলি ছুড়তে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দে চারদিকে হুড়োহুড়ি শুরু হলে হামলাকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষে আটকে ফেলে জিম্মি করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে থাই পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী দ্রুত এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর হামলাকারীকে নিরস্ত্র করে আটক করতে সক্ষম হয়।
আহতদের অবস্থা ও প্রশাসনিক তৎপরতা
প্রাদেশিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে যে, বন্দুকধারীর গুলিতে একজন শিক্ষক এবং একজন শিক্ষার্থী সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট উইচিয়ান সোবুন গণমাধ্যমকে বলেন, “হামলাকারীকে আমরা হেফাজতে নিয়েছি এবং জিম্মি থাকা সমস্ত শিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।” তবে ১৮ বছরের ওই যুবকের হামলার নেপথ্যে কী কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
থাইল্যান্ডে ক্রমবর্ধমান বন্দুক সহিংসতা
থাইল্যান্ডে সাধারণ নাগরিকদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার হার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। যদিও স্কুলে এ ধরনের ‘ম্যাস শুটিং’ (Mass Shooting) এর ঘটনা দেশটিতে খুব বেশি ঘটে না, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা থাই সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি নার্সারি স্কুলে (Nursery School) ছুরি ও বন্দুক নিয়ে হামলা চালালে ৩৬ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২২ জনই ছিল শিশু।
বুধবারের এই ঘটনাটি থাইল্যান্ডের স্কুলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সোংখলা প্রদেশের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনার পর সাময়িকভাবে স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে। বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনী (Security Forces) পুরো এলাকাটি তদারকি করছে এবং হামলাকারীর পরিচয় ও অস্ত্রের উৎস সন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।