চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটলে এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হলে যেকোনো ফলাফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা জানান। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ এবং সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন তিনি।
সুষ্ঠু নির্বাচন ও ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণ করা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং পুরোপুরি বিতর্কহীন হয়, তবে ফলাফল যাই হোক না কেন—তা মেনে নিতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, বড় কথা হলো মানুষের রায়ের সঠিক প্রতিফলন। তবে শর্ত একটাই, এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ হতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা জনগণকে বিভ্রান্ত করার কোনো চেষ্টা সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেবে না।
মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি ও ‘অপ্রত্যাশিত’ ঘটনার উদ্বেগ
ভোটগ্রহণের প্রথম পাঁচ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর তারেক রহমান দেশব্যাপী নির্বাচনী খবরের ওপর নজর রাখছেন বলে জানান। তিনি বলেন, “আমি বেশ কিছু কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি এবং আমাদের কর্মীরা মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য পাঠাচ্ছেন। তবে মোবাইলের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে কিছু জায়গায় অপ্রীতিকর ও অপ্রত্যাশিত ঘটনার চিত্র দেখা গেছে। কোনো কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা সহিংসতা বা কারচুপির মাধ্যমে জনমতকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের বিরূপ ধারণা তৈরি হবে। এটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার (Political Stability) জন্য হুমকিস্বরূপ।
ঐক্যবদ্ধ সরকার ও দেশ পরিচালনার রূপরেখা
নির্বাচন পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তিনি বলেন, “আমরা যেসব রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে দীর্ঘ সময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, আমাদের লক্ষ্য হলো জয়লাভ করলে সবাইকে সাথে নিয়ে দেশ পরিচালনা করা। একটি অংশগ্রহণমূলক শাসনের মাধ্যমে আমরা বেকারত্ব দূরীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা ‘Job Creation’-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চাই।” তার এই বক্তব্যে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ‘Political Narrative’ গড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ভোটের সংখ্যা ও জনমালিকানার ওপর গুরুত্বারোপ
তারেক রহমানের মতে, এ দেশের প্রকৃত মালিক হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তারা যদি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করেন, তবে ভোটার উপস্থিতি বা ‘Voter Turnout’ বাড়বে। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই পারে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা অপতৎপরতা রুখে দিতে।
দ্রুত ফলাফল প্রকাশের প্রত্যাশা
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কোনো বিলম্ব হবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্ব দেন। তারেক রহমান বলেন, “ডিজিটাল এই যুগে ফলাফল পেতে দেরি হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। মানুষ ভোট দেওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার প্রতিফলন দেখতে চায়। আমরা আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কমিশন নির্ভুল ফলাফল ঘোষণা করে জনগণের প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে।”
নির্বাচনী ডামাডোলে বিএনপির এই শীর্ষ নেতার বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। একদিকে তিনি যেমন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অবিচল থাকার বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে অটল থেকেছেন।