• আন্তর্জাতিক
  • বিশ্বের ফুসফুসে স্বস্তির নিঃশ্বাস: আমাজনে বন উজাড় কমল ৩৫ শতাংশ, লুলার লক্ষ্য এখন ‘জিরো ডিফরেস্টেশন’

বিশ্বের ফুসফুসে স্বস্তির নিঃশ্বাস: আমাজনে বন উজাড় কমল ৩৫ শতাংশ, লুলার লক্ষ্য এখন ‘জিরো ডিফরেস্টেশন’

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
বিশ্বের ফুসফুসে স্বস্তির নিঃশ্বাস: আমাজনে বন উজাড় কমল ৩৫ শতাংশ, লুলার লক্ষ্য এখন ‘জিরো ডিফরেস্টেশন’

লুলার পরিবেশবান্ধব নীতির বড় জয়; ডিটার স্যাটেলাইট সিস্টেমে ধরা পড়ল বনভূমি ধ্বংসের সর্বনিম্ন হার, ২০৩০ সালের মধ্যে বন উজাড় শূন্যে নামানোর লক্ষ্যে এক ধাপ এগিয়ে ব্রাজিল।

পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আমাজন রেইনফরেস্ট (Amazon Rainforest) রক্ষায় দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল মিলতে শুরু করেছে। ব্রাজিলের নতুন স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে আমাজনে বন উজাড়ের হার নাটকীয়ভাবে ৩৫ শতাংশ কমেছে। পরিবেশ সংরক্ষণে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকারের কঠোর অবস্থান এবং আইনি পদক্ষেপের কারণেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিশ্লেষকরা।

স্যাটেলাইট চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন

ব্রাজিলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসের ব্যবধানে আমাজনে ১ হাজার ৩২৪ বর্গকিলোমিটার বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। আগের বছরের ঠিক একই সময়ে এই ধ্বংসের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫০ বর্গকিলোমিটার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বন উজাড় কমেছে প্রায় ৩৫.৪ শতাংশ।

এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়েছে ব্রাজিলের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ‘ডিটার স্যাটেলাইট সিস্টেম’ (DETER Satellite System)-এর মাধ্যমে। মূলত রিয়েল-টাইম (Real-time) মনিটরিংয়ের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, বার্ষিক বন উজাড়ের চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় ‘প্রোডেস সিস্টেম’ (PRODES System)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিটার মনিটরিং সিস্টেম চালুর পর থেকে এবারই বনভূমি ধ্বংসের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বলসোনারো বনাম লুলা: দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

আমাজনের এই ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে কাজ করেছে ব্রাজিলের রাজনৈতিক পরিবর্তন। কট্টর ডানপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর আমলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবেশ সুরক্ষা আইন শিথিল করা হয়েছিল। ফলে ওই সময় অবৈধভাবে বন উজাড় ও খনি খননের মহোৎসব চলে। তবে লুলার সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন’ (Environmental Protection) এবং ‘সাসটেইনেবল পলিসি’ (Sustainable Policy)-কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। লুলা বারবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে তিনি আমাজনে বন উজাড় শূন্যে নামিয়ে আনবেন।

সাভানা অঞ্চলেও উন্নতির আভাস

আমাজনের পাশাপাশি ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ ‘সাভানা’ বা সেরাদো (Cerrado) অঞ্চলেও বন উজাড়ের হার কমেছে। যদিও আমাজনের তুলনায় সাভানা অঞ্চলে বন রক্ষার গতি কিছুটা ধীর, তবুও সার্বিকভাবে একে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাজন কেবল ব্রাজিলের সম্পদ নয়, এটি বৈশ্বিক ‘বায়োডাইভারসিটি’ (Biodiversity) বা জীববৈচিত্র্যের প্রধান ভাণ্ডার। তাই আমাজন রক্ষা মানেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পৃথিবীকে এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া।

চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক: তেল প্রকল্পের ছায়া

বন রক্ষায় বড় সাফল্য পেলেও লুলার সরকারকে কিছু সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে আমাজন নদীর মোহনায় নতুন একটি তেল অনুসন্ধান প্রকল্পে (Oil Exploration Project) অনুমোদন দেওয়া নিয়ে পরিবেশবাদীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যদিও লুলার দাবি, এই খাতের অর্থ তিনি ‘ক্লাইমেট অ্যাডাপ্টেশন’ (Climate Adaptation) বা জলবায়ু অভিযোজন ও বনায়ন প্রকল্পে ব্যবহার করবেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

ব্রাজিলের পরিবেশ মন্ত্রণালয় আশা করছে, যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে তবে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অসম্ভব কিছু নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বন রক্ষা কেবল ব্রাজিলের একার দায়িত্ব হতে পারে না। এই কার্যক্রমকে টেকসই করতে হলে উন্নত দেশগুলোর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রয়োজন। ‘গ্লোবাল লিডারশিপ’ (Global Leadership) পর্যায়ে ব্রাজিল এখন জলবায়ু ইস্যুতে পুনরায় নেতৃত্ব দিচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

Tags: climate change biodiversity global warming green energy environmental protection lula da silva sustainability amazon news brazil deforestation satellite monitoring rain forest detergent system