দীর্ঘ দেড় বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। ৩০০ আসনের মধ্যে দুই শতাধিক আসনে জয় নিশ্চিত করার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের আগামীর নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু।
ফেসবুক বার্তায় প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা
আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। তিনি লেখেন, “বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই অসাধারণ বিজয়ের জন্য তারেক রহমানকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।”
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
অভিনন্দন বার্তার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুইজ্জু তার বার্তায় উল্লেখ করেন, “মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা (Cooperation) আরও এগিয়ে নিতে এবং আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে আমি নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।”
পারস্পরিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট তার বার্তায় দুই দেশের ‘Mutual Interest’ বা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে পর্যটন, জনশক্তি রপ্তানি এবং ব্লু-ইকোনমির (Blue Economy) ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে নতুন কোনো স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ (Strategic Partnership) তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক (Bilateral Relations) আরও জোরালো করার ব্যাপারে তার দেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্বনেতাদের অভিনন্দনের জোয়ার
উল্লেখ্য যে, নির্বাচনে বিএনপির এই বিশাল জয়ের পর কেবল মালদ্বীপ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছেন। ইতিপূর্বে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির এই জয় বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নির্বাচনী ফলাফল পরবর্তী এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিএনপির নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ‘Diplomatic Victory’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মৈত্রীকে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার কতটুকু সংহত করতে পারে।