• দেশজুড়ে
  • রংপুরে জাপার দুর্গে এক ছক্কায় সব আসনে চ্যাম্পিয়ান জামায়াত, রানার্সআপ বিএনপি

রংপুরে জাপার দুর্গে এক ছক্কায় সব আসনে চ্যাম্পিয়ান জামায়াত, রানার্সআপ বিএনপি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রংপুরে জাপার দুর্গে এক ছক্কায় সব আসনে চ্যাম্পিয়ান জামায়াত, রানার্সআপ বিএনপি

শাকিল আহমেদ, রংপুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙে এবং বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের পিছনে ফেলে একক ভাবে ছয়টি আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে জামায়াতের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।

কোন এক সময়ে রংপুর জেলার ৬ টি আসনেই ছিলো জাতীয় পার্টির দখলে। কিন্তু আ.লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যোগদানের পর থেকে ধিরে ধিরে পল্লী বন্ধুর জনসমর্থন হারিয়ে হাতছাড়া হতে থাকে রংপুর জেলার আসনগুলো । হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরে জাতীয় পার্টির মধ্যে দলীয় কোন্দল ও জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ধিরে ধিরে আরো বেশি সংকটে পড়ে জাতীয় পার্টি। সবশেষে এখন জাপার ঘাঁটি জামায়াতের দখলে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) ভোরে রংপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান। ফলাফলে ৬টি আসনের মধ্যে ৫ টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত ও একটিতে জামায়াত ১১ দলীয় জোট এনসিপি।

রংপুর-০১ (গংগাচড়া উপজেলা- সিটি কর্পোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮ ওয়ার্ড)

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর সহকারী সেক্রেটারী মোঃ রায়হান সিরাজী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট। এই আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় জাপার প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

রংপুর-০১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন। গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রেগুলোতে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৭। এর মধ্যে বৈধ ২ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৫ হাজার ৩১৩। ভোটের শতকরা হার ছিল ৬০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

রংপুর-০২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ)

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার ভোট পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ টি। এই আসনে জাপার প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল ভোট পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ টি।

রংপুর-০২, বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। এই আসনে ১৩৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রেগুলোতে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬১ হাজার ৮৩৯। এর মধ্যে ছিল বৈধ ২ লাখ ৫৬ হাজার ২০৩ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৫ হাজার ৬৪৩ টি। ভোটের শতকরা হার ছিল ৬৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

রংপুর-০৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন)

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগরের সাবেক আমির মাহবুবুর রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছে।

রংপুর সিটি কর্পোরেশন ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-০৩ আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৪ জন। এই আসনে মোট ১৬৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রেগুলোতে মোট ভোটের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৫। এর মধ্যে বৈধ ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৭ হাজার ২০৩। ভোটের শতকরা হার ৬৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

রংপুর-০৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা)

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজর ৫৬৪ ভোট। এই আসনে জাপার প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট পেয়েছেন।

পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। এই আসনে মোট ১৬৩ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রেগুলোতে সর্বমোট ভোটের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩১৪। এর মধ্যে বৈধ ৩ লাখ ৩০ হাজার ৫১ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৮ হাজার ২৬৩। ভোটের শতকরা হার ৬৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

রংপুর-০৫ (মিঠাপুকুর)

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা আমির গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মোঃ গোলাম রব্বানী ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট পেয়েছেন। জাপার প্রার্থী এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট।

মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-০৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন। এই আসনে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রেগুলোতে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৮৯জন। এর মধ্যে বৈধ ৩ লাখ ১২ হাজার ৮৪ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৮ হাজার ৪০৫ টি। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।

রংপুর-০৬ (পীরগঞ্জ)

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। জাপার প্রার্থী নুর আলম মিয়া ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ টি।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৫ জন। এ আসনে ১১৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রেগুলোতে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪২৭। এর মধ্যে বৈধ ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৫ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৫ হাজার ৪৫২। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, রংপুরে ৬টি সংসদীয় আসনে ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন ভোটার। ৮৭৩টি ভোট কেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটারেরা তাদের ভোট প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতি দল ও স্বতন্ত্র মিলে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

Tags: বিএনপি আসন জামায়াত রংপুরে জাপার দুর্গে ছক্কায় চ্যাম্পিয়ান রানার্সআপ