• জাতীয়
  • গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত, ২০৯ আসনে জিতে ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি: নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র প্রকাশ করল ইসি

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত, ২০৯ আসনে জিতে ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি: নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র প্রকাশ করল ইসি

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত, ২০৯ আসনে জিতে ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি: নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র প্রকাশ করল ইসি

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে দেশবাসীর বিশাল ম্যান্ডেট; ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার প্রয়োগ করেছেন তাদের ভোটাধিকার।

আঠারো মাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং রাজনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার পর অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ভোটের এই চূড়ান্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, গণভোটে দেশবাসীর বিশাল জনসমর্থন যেমন প্রতিফলিত হয়েছে, তেমনি সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে বিএনপি।

গণভোটের রায়: ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিপুল আধিপত্য

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ঐতিহাসিক এই গণভোটে মোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার প্রস্তাবের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজারটি। সচিব জানান, এবারের গণভোটে সামগ্রিক ‘Voter Turnout’ বা ভোটের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ফলাফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে সচিব বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম তথ্যের নির্ভুলতা বা ‘Data Accuracy’ নিশ্চিত করতে। কোনো ধরনের বিভ্রাট যেন জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি না করে, সে লক্ষ্যেই প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।”

সংসদ নির্বাচন: ২০৯ আসনে জয়ী হয়ে ফিরছে বিএনপি

২৯৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৭টির বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনে জয়জয়কার হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)। দলটি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। প্রধান বিরোধী শক্তির জায়গায় উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামী, যারা জয় পেয়েছে ৬৮টি আসনে।

অন্যান্য দলের মধ্যে এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস ১টি করে আসন লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা (Independent Candidates) জয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে। উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর অকাল প্রয়াণের কারণে ওই আসনের ভোটগ্রহণ আগেই স্থগিত করা হয়েছিল।

নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ‘Interim Government’ বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত ‘Multi-tier Security’ বা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় মোতায়েন ছিল। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা (Foreign Observers) সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার বার্তা: ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’

ভোটের দিন সকালে গুলশানে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আজকের দিনটি নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।” তার এই মন্তব্য জনগণের মাঝে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও জামায়াতের এই বিশাল জয় এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রতীকের সাফল্য দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে এক শক্তিশালী ‘Public Mandate’ হিসেবে কাজ করবে। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার বিচারে এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Tags: election commission bangladesh politics muhammad yunus election 2026 bnp victory referendum results seat count