বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্রদের ঐতিহাসিক বিজয়ে বিশ্বমঞ্চ থেকে অভিনন্দনের জোয়ার অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পর এবার বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। দীর্ঘ দেড় দশক পর ক্ষমতার এই বড় পরিবর্তনের পর দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন ‘Geopolitical Realignment’ বা ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ইসলামাবাদের অভিনন্দন: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য দেশটির জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। বিএনপির এই ‘Landslide Victory’ বা ভূমিধস বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে জারদারি বলেন, “পাকিস্তান সবসময়ই বাংলাদেশের সঙ্গে গণতান্ত্রিক অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক অগ্রগতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।”
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক বিশেষ বার্তায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বিশাল জয় বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দিল্লি-ওয়াশিংটনের ইতিবাচক বার্তা
এর আগে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টিউটার) একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি এই জয়কে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর জনআস্থার প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন। মোদি স্পষ্ট জানান, ভারত একটি ‘Democratic, Progressive and Inclusive’ বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একইভাবে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এবং রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন পৃথক বার্তায় এই নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতি তাদের ‘Strategic Support’ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও পাকিস্তানের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর এই দ্রুত সমর্থন বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য একটি বড় ‘Diplomatic Success’।
৩৫ বছরের ইতিহাসের মোড় পরিবর্তন
এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কেবল নতুন সরকারই পাচ্ছে না, বরং দীর্ঘ ৩৫ বছরের একটি প্রথা ভাঙতে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের যে জয়জয়কার ছিল, তার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের হাত ধরে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে এইচ এম এরশাদের আমলে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারেক রহমানের এই অভিষেককে বাংলাদেশের ‘Political Landscape’-এ একটি বড় রূপান্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক নজরে ত্রয়োদশ সংসদের মহাযুদ্ধ
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মোট ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৮৯টির বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি ও তাদের জোট ২১০টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই ভোটে ভোটারের সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখেরও বেশি। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই নির্বাচনকে একটি ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় প্রার্থী এবং ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী এই মহাযুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি ইতিমধ্যে কোনো ধরনের বিজয় মিছিল না করার ঘোষণা দিয়েছে, যা ‘Political Etiquette’ বা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বনেতাদের এই উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং দেশের মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক নতুন ‘Economic Growth’ ও ‘Digital Transformation’-এর পথে হাঁটবে—এমনটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।