ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম রোমাঞ্চকর দ্বৈরথে বার্সেলোনাকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। কোপা দেল রে-র সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ঘরের মাঠ মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে দাপুটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বার্সেলোনাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ডিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা। এই 'ক্লিন শিট' জয় ও বিশাল গোলের ব্যবধানে ফাইনালের পথে অনেকটা এগিয়ে গেল অ্যাতলেটিকো। অন্যদিকে, হ্যান্স ফ্লিকের শিষ্যদের জন্য এই পরাজয় এক ঐতিহাসিক লজ্জার সাক্ষী হয়ে রইল।
প্রথমার্ধেই মহাপ্রলয়: বার্সার রক্ষণ তছনছ
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতের এই ম্যাচে শুরু থেকেই অ্যাতলেটিকোর আক্রমণাত্মক মেজাজের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরুতেই এক অপেশাদার ভুলের শিকার হয় কাতালানরা। ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার একটি নিরীহ ব্যাকপাস নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন গোলরক্ষক। বল তার পা ফস্কে সরাসরি জালে জড়ালে আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে বার্সেলোনা। এই ‘অফ-ডে’র শুরুটাই যেন পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যাতলেটিকোর আইকনিক ফরোয়ার্ড অঁতোয়ান গ্রিজম্যান। নাহুয়েল মোলিনার নিখুঁত ক্রস থেকে এক দর্শনীয় শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরাসি তারকা। বার্সেলোনা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও অ্যাতলেটিকোর ‘হাই-প্রেসিং’ ফুটবলের কাছে পরাস্ত হতে থাকে। ৩৩তম মিনিটে দলের নতুন সংযোজন অ্যাডেমোলা লুকম্যান স্কোরলাইন ৩-০ করেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বার্সার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে লুকম্যানের সহায়তায় এক বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠান ‘স্পাইডার’ খ্যাত এই তারকা।
ভিএআর বিতর্ক ও লাল কার্ডের ট্র্যাজেডি
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে সিমিওনের দল, তবে বার্সেলোনা ব্যবধান কমানোর কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি। ৫২ মিনিটে পাউ কুবার্সির একটি গোল বার্সা শিবিরে কিছুটা আশার আলো দেখালেও ভিএআর (VAR) পরীক্ষায় তা অফসাইড ধরা পড়ে এবং বাতিল হয়। ম্যাচের শেষ দিকে বার্সেলোনার দুর্দশা আরও বাড়ে যখন এরিক গার্সিয়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বার্সেলোনার জন্য তখন হারের ব্যবধান কমানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
ইতিহাসের পাতায় লজ্জার নজির
পরিসংখ্যান বলছে, ইতিহাসে মাত্র তৃতীয়বার অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ৪-০ ব্যবধানে হারল বার্সেলোনা। এর আগে ১৯৮৯ সালে শেষবার এই লজ্জাজনক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিল তারা। ৩৫ বছর পর আবারও সেই স্মৃতি ফিরে আসায় বার্সেলোনার সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। টেকনিক্যাল সুপিরিওরিটি এবং ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাসের মাধ্যমে সিমিওনে প্রমাণ করলেন কেন নক-আউট পর্বে তার দল বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর শক্তি।
আগামীর চ্যালেঞ্জ: কামব্যাকের স্বপ্ন নাকি বিদায়?
আগামী ৩ মার্চ বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে সেমিফাইনালের ফিরতি লেগ অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনালের টিকিট পেতে হলে বার্সেলোনাকে অবিশ্বাস্য কিছু করতে হবে—কমপক্ষে ৫ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে তাদের। ফুটবল বিশ্বে বার্সেলোনার ঐতিহাসিক ‘রেমনটাডা’ বা কামব্যাকের নজির থাকলেও বর্তমান ফর্ম ও অ্যাতলেটিকোর শক্ত রক্ষণের সামনে এটি প্রায় অসম্ভব এক লক্ষ্য বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।