বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের দাপট বজায় রেখে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল শ্রীলঙ্কা। আয়ারল্যান্ডকে হারানোর পর এবার ওমানকে পাত্তাই দিল না লঙ্কানরা। অধিনায়ক দুশান শানাকার রেকর্ডগড়া ব্যাটিং এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ১০৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। এই জয়ের ফলে ৪ পয়েন্ট এবং দুর্দান্ত নেট রানরেট (Net Run Rate) নিয়ে সুপার এইটের (Super Eight) পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল লঙ্কান সিংহরা।
লঙ্কান ব্যাটারদের তাণ্ডব ও শানাকার বিশ্বরেকর্ড বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পলে্কেলেতে টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় ওমান। শুরুতে কামিল মিশারা (৮) ও পাথুম নিশাঙ্কা (১৩) দ্রুত বিদায় নিলে কিছুটা চাপে পড়েছিল স্বাগতিকরা। তবে সেই চাপকে উৎসবে রূপ দেন কুশল মেন্ডিস ও পবন রত্নায়েকে। এই জুটি মাত্র ৫০ বলে ৯৪ রান যোগ করে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। পবন রত্নায়েকে ২৮ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬০ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন।
তবে ইনিংসের আসল হাইলাইট (Highlight) ছিল অধিনায়ক দুশান শানাকার ব্যাটিং। চারে নেমে ওমানি বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিম রোলার চালান তিনি। মাত্র ১৯ বলে অর্ধশতক হাঁকিয়ে তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অধিনায়ক হিসেবে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডে ভারতের রোহিত শর্মার পাশে বসেন। ২০ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৫০ রান করে আউট হন শানাকা। অন্যদিকে ওপেনার কুশল মেন্ডিস খেলেন ৪৫ বলে ৬১ রানের ধৈর্যশীল এক ইনিংস। শেষদিকে কামিন্দু মেন্ডিসের ৭ বলে ১৯ রানের ক্যামিওতে শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রানের বিশাল স্কোরবোর্ড (Scoreboard) দাঁড় করায়।
ওমানের ব্যাটিং বিপর্যয় ও চামিরা-থিকসানার দাপট ২২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে-তেই (Powerplay) পথ হারায় ওমান। মাত্র ৩৬ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে তারা ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। লঙ্কান পেসার দুষ্মন্ত চামিরা ও স্পিন জাদুকর মাহেশ থিকসানার তোপে ওমানের ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ওমান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২০ রান তুলতে সক্ষম হয়।
ওমানের পক্ষে ওয়ান ডাউনে নামা মোহাম্মদ নাদিম একাই লড়াই চালিয়ে যান। তিনি ৫৬ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া ওয়াসিম আলী ২০ বলে ২৭ রান করলেও দলের অন্য কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের কোঠা স্পর্শ করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার পক্ষে চামিরা ও থিকসানা ২টি করে এবং দুনিথ ভাল্লালাগে, দুশান হেমন্ত ও কামিন্দু মেন্ডিস ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
সুপার এইটের সমীকরণ ও ওমানের বিদায়ঘণ্টা টানা দুই জয়ে শ্রীলঙ্কার সুপার এইট নিশ্চিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। পলে্কেলের এই জয়ে লঙ্কানদের আত্মবিশ্বাস ও রানরেট দুটোই আকাশচুম্বী। অন্যদিকে, র্যাঙ্কিংয়ের ২০ নম্বরে থাকা ওমান টানা দুই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। ওমানের বোলারদের মধ্যে রামানন্দি ৪১ রানে ২ উইকেট পেলেও লঙ্কান ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক স্ট্রাইক রেটের (Strike Rate) সামনে তারা ছিলেন অসহায়।
সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শ্রীলঙ্কা পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও দাপট দেখাতে চায়। বিশেষ করে শানাকার ফর্মে ফেরা এবং টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের বোঝাপড়া লঙ্কানদের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।