টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণে মুখোমুখি হওয়ার আগেই মাঠের বাইরের উত্তাপে উত্তাল দিল্লি। স্বাগতিক ও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ভারতের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের আগে আয়োজকদের বিরুদ্ধে ‘বিমাতাসুলভ’ আচরণের অভিযোগ তুলেছে নামিবিয়া। দলটির অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমুসের দাবি, ভারতের বিপক্ষে দিবারাত্রির (D/N Match) গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে তাদের একবারও ফ্লাডলাইটের নিচে অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
বৈষম্যের অভিযোগ ও এরাসমুসের ক্ষোভ
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের মুখোমুখি হবে নামিবিয়া। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন নামিবিয়া অধিনায়ক। এরাসমুস বলেন, “জানিনা কেন, তবে এই ম্যাচের আগে আমাদের একটিও রাতের প্র্যাকটিস সেশন (Night Practice Session) দেওয়া হয়নি। অথচ ভারত দুবার ফ্লাডলাইটের নিচে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে। এমনকি আমরা যখন মাঠ ছাড়ছিলাম, তখন দেখলাম কানাডাও রাতের আলোয় অনুশীলন করছে।”
কানাডার প্রসঙ্গ টেনে এরাসমুস আরও যোগ করেন, “কানাডার পরের ম্যাচ শুক্রবার বিকেলে, অথচ তারা রাতের বেলা অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছে। আমরা দিনের আলোতে প্র্যাকটিস করেছি, কিন্তু খেলা হবে রাতে। এখন যা বোঝার আপনারাই বুঝে নিন। তবে আমরা আমাদের ‘নামিবিয়ান স্টাইলে’ লড়াই করতে প্রস্তুত।”
অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও কৃত্রিম আলোর চ্যালেঞ্জ
নামিবিয়া অধিনায়কের এই অভিযোগ কেবল একটি সুযোগ না পাওয়ার ক্ষোভ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর কারিগরি কারণ। নামিবিয়ার ক্রিকেট পরিকাঠামো বা ‘Infrastructure’ এখনও ততটা উন্নত নয়। এরাসমুস জানান, তাদের দেশে কোনো ফ্লাডলাইট সমৃদ্ধ স্টেডিয়াম নেই। ফলে কৃত্রিম আলোয় খেলার অভিজ্ঞতা তাদের খেলোয়াড়দের অত্যন্ত সীমিত।
তিনি বলেন, “যাদের নিয়মিত আলোয় খেলার অভ্যাস নেই, তাদের জন্য ফ্লাডলাইটের নিচে মানিয়ে নেওয়া মোটেও সহজ নয়। আইএলটি২০ (ILT20) বা পূর্ববর্তী বিশ্বকাপগুলোর অভিজ্ঞতা বাদ দিলে আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই ঘাটতি পূরণের জন্য অন্তত একটি রাতের অনুশীলন সেশন আমাদের জন্য অপরিহার্য ছিল।”
আইসিসি-র সাফাই ও ‘লেট রিকোয়েস্ট’ বিতর্ক
নামিবিয়ার এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি (ICC)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুশীলনের সময়সূচি বা ‘Schedule’ অনেক আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
আইসিসি-র একজন মুখপাত্র বলেন, “টুর্নামেন্ট শুরুর অনেক আগেই, গত ২৭ জানুয়ারি সব দলকে অনুশীলনের চার্ট দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সময় পরিবর্তনের যে কোনো অনুরোধ আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করি। তবে নামিবিয়ার পক্ষ থেকে রাতের অনুশীলনের অনুরোধটি এসেছে ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে, যা ছিল অত্যন্ত বিলম্বিত। শেষ মুহূর্তে শিডিউল পরিবর্তন করা লজিস্টিক কারণে সম্ভব ছিল না।”
বিশ্বকাপ পরিক্রমা ও নামিবিয়ার লড়াই
আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে দাপট দেখিয়ে হারারে থেকে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছিল নামিবিয়া। তবে মূল আসরের শুরুটা তাদের সুখকর হয়নি; নেদারল্যান্ডসের কাছে হার দিয়ে শুরু হয়েছে তাদের যাত্রা। ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ের পর গ্রুপ পর্বে তাদের আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। তবে দিল্লির এই ‘অনুশীলন বিতর্ক’ প্রমাণ করছে যে, মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক সমীকরণেও বড় দলগুলোর তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে সহযোগী দেশগুলো।
এখন দেখার বিষয়, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই ভারতের মতো বিশ্বশক্তির বিপক্ষে ফ্লাডলাইটের নিচে নামিবিয়া কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারে।